Dhaka ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
মাধবপুরে মামলার বাদী ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকির অভিযোগ ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের (ডিএমএফ) নতুন নেতৃত্ব: সভাপতি দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক মানিক দিল্লির ব্যবসায়ীদের ক্ষতি নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই: রাহুল বনাম বিজেপি “যুবসমাজ দেশের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ, দক্ষ তরুণ গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”— ড. খন্দকার মারুফ হোসেন ছাত্রজীবনের রাজনীতি কর্মজীবনে প্রভাব ফেলতে পারবে না: নবীন কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা মামলা: বান্ধবী দিশা গ্রেপ্তার, রিমান্ডে বন্ধু দীপ এলজিইডির ‘রিভার’ প্রকল্প পরিচালক আতিকুলের বিরুদ্ধে দুদক ও সিআইডিতে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ শ্রীমঙ্গলের কানুনগো শ্রীপদ দেবের পদোন্নতি ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় নিয়ে বিতর্ক লালমনিরহাটে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প: ১৫ কোটি টাকা ও ৩৭২ টন চাল-গম নয়ছয়ের অভিযোগে পিআইও প্রত্যাহার, জোড়া তদন্ত শুরু ময়মনসিংহে যুব উন্নয়নের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি: ১৮০ কোটির ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন, গায়েব তদন্তের নথি

লালমনিরহাটে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প: ১৫ কোটি টাকা ও ৩৭২ টন চাল-গম নয়ছয়ের অভিযোগে পিআইও প্রত্যাহার, জোড়া তদন্ত শুরু

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বরাদ্দকৃত প্রায় ১৫ কোটি টাকার নগদ অর্থ এবং ৩৭২ মেট্রিক টন চাল-গম নয়ছয় ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অনুমোদিত ২৬৩টি প্রকল্পের সিংহভাগেই ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, অস্তিত্বহীন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ছাড় এবং খাদ্যশস্য আত্মসাতের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম মাজহানুর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়মের সত্যতা যাচাইয়ে জেলা প্রশাসন ও অধিদপ্তর থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলায় চলতি অর্থবছরে ২৬৩টি উপপ্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের বিপরীতে নগদ বরাদ্দ ছিল ১৫,০০,১৯,৪৭৯ টাকা। পাশাপাশি ১৮৮ মেট্রিক টন গম ও ১৮৪ মেট্রিক টন চাল—সব মিলিয়ে ৩৭২ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ করা হয়।

দাপ্তরিক নথিপত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন এবং পুরো বরাদ্দ বিতরণের দাবি করা হলেও, মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ প্রকল্পই হয় অস্তিত্বহীন, নয়তো আংশিকভাবে বাস্তবায়িত। কোথাও ভুয়া ভাউচারে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, আবার কোথাও উপকারভোগীদের অন্ধকারে রেখে কাল্পনিক কমিটি বানিয়ে সরকারি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশের দাবি, তাঁদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে।

তুষভান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলজার হোসেন জানান, বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই এমন একটি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম ব্যবহার করে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, যা তিনি জানতেনই না। অন্যদিকে, কাকিনার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইয়াছিন আলী জানান, তিনি নিজের প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ করলেও বিলের জন্য দিনের পর দিন পিআইও অফিসে ঘুরেছেন, অথচ কোনো কাজ না করা প্রকল্পের বিপরীতে ঠিকই পুরো অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্নীতির এসব তথ্য জানাজানি হওয়ার পর থেকেই পিআইও কার্যালয়ের কার্য সহকারী রওশন ইসলাম দাপ্তরিক নথি ফেলে কর্মস্থল ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নগদ অর্থের পাশাপাশি বরাদ্দকৃত ৩৭২ মেট্রিক টন চাল-গম নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটির রাস্তা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে এই খাদ্যশস্য প্রকল্পে ব্যবহার না করে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে হিসাব মেলানো হয়েছে। খাদ্যগুদাম থেকে ছাড় থেকে শুরু করে পরিবহন ও বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান গত ২২ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মীর ফয়সাল আলীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে এলজিইডি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের রাখা হয়েছে। কমিiteকে আটটি ইউনিয়নের প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব অস্তিত্ব ও কাজের মান যাচাই করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কালীগঞ্জে অবস্থান করে ক্যাশ বই, স্টক রেজিস্টার এবং মাস্টাররোল যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্ত পিআইও এইচ এম মাজহানুর রহমানকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর অবমুক্ত করে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঢাকায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) আব্দুল মতিন এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসনিক এই রদবদল ও তদন্তের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও কালীগঞ্জ উপজেলার সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, কেবল একজন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করাই সমাধান নয়। ২৬৩টি প্রকল্পের প্রতিটির প্রকৃত হিসাব জনসমক্ষে আনা, আত্মসাৎকৃত অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

মাধবপুরে মামলার বাদী ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকির অভিযোগ