
ভারতের রাজস্থানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে ৩৬টি রিসোর্ট ভিলা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জ্যেষ্ঠ আইএএস কর্মকর্তা শিখর আগরওয়াল ও তার স্ত্রী (পুলিশ কর্মকর্তা)—এর বিরুদ্ধে। রাজস্থানের দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি) বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদ এবং শিল্প বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালায় এসিবি। এরপর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮-এর ১৭এ ধারায় শিখর আগরওয়াল, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি কোম্পানির পরিচালক এবং জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয় রাজ্য সরকার।
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘আনন্ত’ ব্র্যান্ডের হোটেল ও রিসোর্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেড-এর সঙ্গে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কথিত যোগসাজশ। অভিযোগ রয়েছে, শিল্প বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব, উদয়পুরের জেলা প্রশাসক এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন শিখর আগরওয়াল নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়মবহির্ভূত ছাড়, শর্ত শিথিলকরণ এবং দ্রুত অনুমোদন পাইয়ে দিয়েছিলেন। এর বিনিময়েই মূলত তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে কম মূল্যে রিসোর্টের ভিলা বরাদ্দ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তে জানা গেছে, উদয়পুরের বুজড়া এবং আলওয়ারের আজবগড় এলাকায় আনন্ত রিসোর্টের মোট ৩৬টি ভিলা নামমাত্র মূল্যে কিনেছেন ওই কর্মকর্তা ও তার স্বজনেরা। ভিলাগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:
উদয়পুরের বুজড়া: চলতি বছরের মার্চ মাসে এই এলাকায় মোট ২০টি ভিলা কেনা হয়। যার মধ্যে ১০টি শিখর আগরওয়ালের নামে এবং বাকি ১০টি তার স্ত্রী প্রশাখা মাথুরের নামে নিবন্ধিত। প্রতিটি ভিলার দাম দেখানো হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ রুপি (মোট মূল্য প্রায় ৩ কোটি রুপি)।
আলওয়ারের আজবগড়: এই রিসোর্টে আরও ১৬টি ভিলা কেনা হয়েছে। যার মধ্যে শিখর আগরওয়াল ও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে আটটি (চারটি করে)। এ ছাড়া তাদের দুই ছেলের নামে চারটি এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নামে আরও চারটি ভিলা কেনা হয়েছে। এসব ভিলার দাম ১৫ লাখ থেকে সাড়ে ১৬ লাখ রুপির মধ্যে দেখানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই ৩৬টি ভিলার মোট ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫২ লাখ রুপি।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে একটি সন্দেহজনক বিষয়—গত ২৭ মার্চ গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেডকে রাজস্থানের অর্থ বিভাগ থেকে একটি বিশেষ আর্থিক ছাড়ের প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল। আর ঠিক একই দিনে আগরওয়াল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২০টি ভিলা নিবন্ধন করা হয়েছিল বলে তথ্য রয়েছে। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না এবং এর মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বড় ধরনের কোনো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কি না, তা এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন ব্যুরো।
অনলাইন ডেস্ক 























