
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আজ রোববার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিশাল সমাবেশ ও ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রার আয়োজন করেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো রামলীলা ময়দান ও মধ্য দিল্লি চত্বরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমাবেশস্থলের বাইরে লাঠি, ঢাল ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ যানবাহন নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী। এছাড়া দিল্লির প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
গত মাস থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছে বিরোধী দলগুলো, বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন এবং তরুণদের মোর্চা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, গত বছর শুরু হওয়া এই ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৩ কোটি ভোটারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
গত সেপ্টেম্বরে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ডিজিটাল নিবন্ধন ও সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধানও অভ্যন্তরীণভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভোটাররা, যারা মূলত ক্ষমতাসীন বিজেপির সমর্থক নন।
যদিও নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা নির্ধারিত নিয়মে পুনরায় তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তরুণ সমাজ ও বিরোধী দলগুলোর এই যৌথ আন্দোলন দেশটির বর্তমান প্রশাসনের সামনে অন্যতম বড় একটি রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। যদিও সরকারের মূল স্থিতিশীলতা এখনও অটুট রয়েছে এবং দেশটির পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্য দিল্লি থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদযাত্রা এবং পরবর্তীতে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের জমায়েতের প্রত্যাশা করছে বিরোধী শিবির।
অনলাইন ডেস্ক 























