Dhaka ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নাসিরনগরে উপজেলা বিএনপির ইউনিয়ন ভিত্তিক সাংগঠনিক সভার কর্মসূচি ঘোষণা‎‎ গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে ব্যাপক ফলনের সাফল্য পোরশায় স্থানীয়দের সহায়তায় ৩ খুচরা মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৩২ পিস ট্যাপেন্টাডল জব্দ এম এন লারমার স্মৃতিতে লোগাংয়ে ফুটবলের উৎসব রাণীনগরে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি গোপালগঞ্জ কলেজের চুরির অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি আটক চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ জরিমানা ছাড়াই গাড়ির কাগজ ও লাইসেন্স হালনাগাদের মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ভোগান্তি এড়াতে অনতিবিলম্বে সুযোগ গ্রহণের পরামর্শ বিআরটিএ ও সচেতন মহলের! যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ফুলব্রাইটের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ ইউজিসির শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ: শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার আগ্রহ

বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা

স্কুলের নাম বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যশোরের বেনাপোল বন্দর ও কাস্টম হাউজের সামনে এর অবস্থান। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরের এই স্কুল থেকে পাশ করা লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রী আজ সমাজের উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত। এলাকার অনেক রাজনীতিবিদ এই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তুু কেউ কথা রাখেনি। এমপিদের পছন্দের লোক স্কুল পরিচালনা কমিটিতে নাম লেখাতে ব্যস্ত ছিলেন। স্কুলের উন্নয়নে তাদের কোন দায়িত্ব ছিল না। সে কারণে দীর্ঘ ৩০ বছরেও নির্মাণ করা হয়নি নতুন কোন ভবন।

বর্তমানে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। যে কোন মূহুর্তে পরিত্যক্ত ভবন ধ্বসে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। ডিজিটাল বাংলাদেশের এমন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজও থাকতে পারে এটা বিশ্বাস করা যায় না। ১৮৮৭ সালে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার পর ১৯৬৫ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হয় যার নাম দেয়া হয় কবি নজরুল ইসলাম ভবন। এর পর ১৯৯৬ সালে আরো একটি ভবন নির্মাণ করা হয় যার নাম দেয়া হয় কবি জসিমউদ্দিন ভবন। বর্তমানে দুইটি ভবনই পরিত্যক্ষ। ১২ জন শিক্ষক ও ৩ শ‘ ৫৭ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে চলছে এ বিদ্যালয়টি। প্রথম শিক্ষক পদটি খালি রয়েছে।

স্বনামধন্য এই বিদ্যাপিঠের পুরাতন ভবন দুইটি ৬ মাস আগে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলার শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর আজও নতুন কোন বিকল্প ভবনের মুখ দেখেনি সেখানকার শিক্ষার্থীরা। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর কোমলমতি শিশু-শিক্ষার্থীদের সেই পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করতে হয় ঝড়-বৃষ্টি বর্ষা বাদলের মধ্যে। আর পরিত্যক্ত ভবনে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় স্কুলের বারান্দায় ক্লাস করতে হচ্ছে। অন্য একটি ভবনের একটি কক্ষে অফিস ও শিক্ষকদের বসার কক্ষ ও পাশের কক্ষে ও উপরে ৩টি তৃতীয় চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম। জায়গা সংকটের কারণে বর্তমানে দুই শিফটে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। প্রথম শিফটে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর এবং দুপুর ১২ টা থেকে বেলা ৪টা পর্যন্ত তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ক্লাস করানো হচ্ছে।

শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড। সরকার শিক্ষা খাতে সর্বাধিক আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকলেও দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের প্রাথমিক শিক্ষায় আজো রয়েছে অবহেলিত। ভাঙাচুরা স্কুলের নীচে বসেই শিক্ষা গ্রহন করতে হচ্ছে কোমলমতি এ সব শিশু শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলানের কারনে শিক্ষার্থীরা স্কুলের বারান্দায় ক্লাস করছে। পরিত্যক্ত বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ার ভয়ে এলাকার কয়েকজন বিদ্যানুরাগী বাঁশ আর টিনের চাল দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম করার দায়িত্ব নিয়েছেন।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ৩০ বছরেও স্কুলের পাকা ভবন নির্মাণ হয়নি। ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে কয়েকবার চিঠি দিয়েও কোনও কাজ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ উদ্যোগের অভাবে প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও প্রতিষ্ঠানের জন্য পাকা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ভবন না থাকার পাশাপাশি আছে শ্রেণিকক্ষের সংকট।

বেনাপোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ¦ মতিয়ার রহমান জানান, স্কুলটির ভবন না থাকায় এখানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে। এ স্কুলটির জন্য জরুরী ভিত্তিতে ৪ তলা একটি বিল্ডিং প্রয়োজন। বিষয়টি স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে বলা হয়েছে।

বেনাপোলের ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ¦ হাবিবর রহমান হবি বলেন, জরুরী ভিত্তিতে স্কুলের ভবন নির্মঅণ প্রয়োজন। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে কস্ট হচ্ছে। আমরা নিজেরাই শিক্ষার্থীদের অবস্থা দেখে বাঁশ আর টিনের চাল দিয়ে কয়েকটি ক্লাস রুম করার দায়িত্ব নিয়েছি। খুব দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। স্কুলের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বেদৌরা পারভীন জানান, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২ জন শিক্ষক এবং সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী আছে। এ জন্য ১০টি শ্রেনী কক্ষের প্রয়োজন কিন্তু আছে মাত্র চারটি। শ্রেনী কক্ষের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়েছে দীর্ঘ দিন। যে কোন মূহুর্তে পরিত্যক্ত ভবন ধ্বসে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। সে কারণে ঝুঁকি না নিয়ে স্কুলের বারান্দায় ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বারবার ভবনের জন্য তাগিদ দেওয়া সত্বেও শিক্ষা অফিস থেকে আশ্বাস পাওয়া গেলেও বছরে ভবনের মুখ দেখা মেলেনি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর মেধা তালিকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্থান করে নেয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী কয়েকজন বাঁশ আর টিনের চাল দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম করার দায়িত্ব নিয়েছেন। ক্লাস রুম তৈরি হলে কিছুটা কস্ট লাঘব হবে।

শার্শা উপজেলা শিক্ষা অফিসার রেহেনা বানু জানান, দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্তবর্তী বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করছিল। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাশবন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি কয়েকবার সহকারি শিক্ষা অফিসারকে সাথে নিয়ে স্কুল পরিদর্শন করেছি। শ্রেণী সংকটের কারণে স্কুলের বারান্দায় ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের বলা হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য ইতোমধ্যে সওয়াল টেস্ট করা হয়েছে। উর্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করার পরও কেন নতুন ভবনের বরাদ্দ আসছে না তা আমাদের বোধগম্য নহে। বরাদ্দ এলেই নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

নাসিরনগরে উপজেলা বিএনপির ইউনিয়ন ভিত্তিক সাংগঠনিক সভার কর্মসূচি ঘোষণা‎‎