
রগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত এড়াতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর পৃথক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি এবং একটি এয়ারগানসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন দুই গ্রুপের সব ধরনের সভা-সমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।
এরই জেরে সাবেক সদস্যসচিব মোস্তাক গ্রুপ এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়কের অনুসারী সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন গ্রুপ একই দিনে পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।
দুপুরের দিকে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় অস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচ বহিরাগত যুবককে আটক করে পুলিশ।
আটকদের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সমাবেশে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।
এর পরপরই বিকেল ৪টার দিকে যৌথ বাহিনীর পৃথক অভিযানে মাহবুবুল আলম মামুনের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে একটি এয়ারগান জব্দ করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক অভিযোগ করেন, তার সমাবেশে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে আনা হয়েছিল।
অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন জানান, তিনি অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং প্রশাসনের নির্দেশে তারা কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার জানান, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের সংবেদনশীল স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার রয়েছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বরগুনা প্রতিনিধি 
























