
বিপিসির চেয়ারম্যান-পরিচালকরা এবং সচিব শাহিনা সুলতানা ও মোরশেদ হোসাইন আজাদ,জুবায়ের আহমেদ এরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর এক নজিরবিহীন হরিলুট এর উৎসবে মেতে আছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-তে।
বিপিসির ‘সমান্তরাল প্রশাসন’ ঢাকায়, চট্টগ্রাম কার্যালয় অলস: ২/১ দিন এসে ‘মেহমান’ সাজেন চেয়ারম্যান-পরিচালকরা!
সরকারি অনুশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর এক নজিরবিহীন উৎসব চলছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-তে। আইন অনুযায়ী এই রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, চেয়ারম্যান ও পরিচালক -দের সিংহভাগই স্থায়ীভাবে ঘাঁটি গেড়েছেন ঢাকার কারওয়ান বাজারের লিয়াজোঁ অফিসে। ফলে চট্টগ্রামে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিপিসির নিজস্ব আধুনিক বহুতল ভবনটি এখন অলস পড়ে আছে। আর শীর্ষ কর্মকর্তারা মাসে মাত্র ১-২ বার চট্টগ্রামে আসেন কেবল ‘মেহমান’ বা পরিদর্শকের মতো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার এই লিয়াজোঁ অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার মূল কাজই হলো তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর বদলি, পদায়ন ও নানা ধরনের ‘তদবির বাণিজ্য’।
এই বদলি,পদায়ন ও নানা ধরনের ‘তদবির বাণিজ্য একক ভাবে পরিচালনা করেন (বিপিসির) সচিব শাহিনা সুলতানা এবং (বিপিসির) শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ফাইল সইয়ের জন্য বিমানের টিকিট: জনগণের টাকায় বিলাসিতা
নীতিনির্ধারকরা ঢাকায় অবস্থান করায় বিপিসি এবং এর অধীনস্থ তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) দৈনন্দিন প্রশাসনিক নথিপত্র ও ফাইল অনুমোদনের জন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সপ্তাহে কয়েকবার ফাইল নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ওয়ান-ওয়ে ইকোনমি ক্লাসের বিমান ভাড়াই প্রায় ৪,৩০০ থেকে ৫,৩০০ টাকা [ShareTrip Flight Fares]। এই বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তার বিমান টিকিট, ট্রাভেলিং এলাউন্স (টিএ), দৈনিক ভাতা (ডিএ) এবং ঢাকা-চট্টগ্রামের বিলাসবহুল রেস্ট হাউসে কর্মকর্তাদের প্রটোকল ও আপ্যায়ন বাবদ প্রতি বছর সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকার স্পষ্ট অপচয় হচ্ছে।
লিয়াজোঁ অফিস নাকি সমান্তরাল হেড অফিস?
চট্টগ্রামের জয় পাহাড় বিপিসির আন্তর্জাতিক মানের প্রধান কার্যালয় প্রস্তুত থাকার পরেও ঢাকার কারওয়ান বাজারের অফিসটিকে কার্যত মূল কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে এই কার্যালয়ের পেছনে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার অতিরিক্ত ভবন ভাড়া, বাণিজ্যিক ইউটিলিটি বিল এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক স্টাফ রাখার পেছনে দ্বৈত ব্যয় হচ্ছে।
অডিট আপত্তি ও তদারকির অভাব: সহযোগী প্রতিষ্ঠানে শতকোটি টাকার হরিলুট
প্রধান কর্মকর্তারা চট্টগ্রামে উপস্থিত না থাকায় মাঠপর্যায়ের রিফাইনারি বা বিপণন কোম্পানিগুলোতে মূল তদারকি ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। শীর্ষ কর্তাদের এই নজরদারির অভাব ও দূরবর্তী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে বিপিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের পর বছর ধরে অসাধু সিন্ডিকেটগুলো লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিগত অডিটগুলোতে বিপিসির অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসএওসিএল)-এ ৪৭২ কোটি টাকা এবং অন্য খাতে ১১৯ কোটি টাকাসহ মোট শত শত কোটি টাকার বিশাল আর্থিক অনিয়ম ও তহবিল তছরুপের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধরা পড়েছে। নথিপত্রে ঘষাঘষি, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের চেক ও সরকারি তেলের আড়ালে এই পারিবারিক হরিলুটের পেছনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা ও কঠোর নজরদারির অভাবকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দেরিতে সিদ্ধান্ত: গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ ডলার ডেমারেজ চার্জ
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এবং মাদার ট্যাংকার জাহাজ খালাসের মূল অপারেশনাল কাজগুলো চলে চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তারা ঢাকায় বসে থাকায় ফাইলের লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয়। জাহাজ খালাসে জট তৈরি হলে বিদেশি শিপিং কোম্পানিগুলোকে প্রতিদিন হাজার হাজার ডলার ডেমারেজ (জরিমানা) গুনতে হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতির ওপর বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক: আন্দোলনের ডাক
তদারকিহীন বিপিসিতে শতকোটি টাকার কেলেঙ্কারি: ঢাকায় বসে ‘লুটপাট সিন্ডিকেট’ সামলান শীর্ষ কর্মকর্তারা!
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















