
আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক আরব দেশকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের মূল অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাসমূহে বড় ধরনের হামলা চালানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতি ওয়াশিংটনের এই আগাম সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন এই অভিযানে ইসরায়েলও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ ও ঝুঁকি এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে—
অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি মোতায়েন করা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন সেনাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গোলাবারুদের মজুত নতুন করে পূর্ণ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যকার মধ্যস্থতার আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি অচলাবস্থায় রয়েছে এবং এই পরিস্থিতির জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান মার্কিন শর্ত মেনে না নিলে পুনরায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর ইরানি ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ইরানি ট্যাংকার ও জলযানেও আক্রমণ চালানো হয়। এর জবাবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে গুলি চালিয়েছে ইরান; কারণ তেহরান এই রুটটিকে অবৈধ বলে বিবেচনা করে।
মার্কিন হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যেকোনো মূল্যে মাতৃভূমি রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসনের পথ বেছে নেয়, তবে তাদের আরও বড় ধরনের কৌশলগত ব্যর্থতার মুখে পড়তে হবে।
পাশাপাশি, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি-র এক ঊর্ধ্বতন সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের জন্য তেহরান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
অনলাইন ডেস্ক 

























