
বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী করতে চীন থেকে চতুর্থ প্রজন্মের ২০টি ‘জে-১০সিই’ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে সরকার। গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগটি বর্তমান বিএনপি সরকার জোরেশোরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সূত্র ও নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যয় ও পরিশোধের পরিকল্পনা এই যুদ্ধবিমানগুলো ক্রয়ে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২.১৪ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।
-
মূল বিমান খরচ: ২০টি যুদ্ধবিমানের প্রতিটির দাম ৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার (حدود ৭৭১ কোটি টাকা)। সব মিলিয়ে বিমানের পেছনে খরচ হবে ১২৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার (প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা)।
-
প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম: পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের জন্য অতিরিক্ত ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
-
পরিশোধের মেয়াদ: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত মোট আটটি অর্থবছরে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে।
কবে আসবে এই যুদ্ধবিমান? প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ ২৭ সালের মধ্যে প্রথম চালানে ৬টি জে-১০ বিমান বাংলাদেশে পৌঁছাবে। পরবর্তীতে বাকি ১৪টি বিমান ধাপে ধাপে আনা হবে। মোট ২০টি বিমানের মধ্যে ১০টি ব্যবহার করা হবে বিমানবাহিনীর বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে (টিওঅ্যান্ডই) এবং বাকি ১০টি দিয়ে গঠন করা হবে নতুন স্কোয়াড্রন।
ক্রয় পদ্ধতি ও সামরিক প্রস্তুতি সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে চীন সরকার অথবা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘চায়না ন্যাশনাল অ্যারো-টেকনোলজি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট’ (সিএটিআইসি)-এর মাধ্যমে সরাসরি এই চুক্তি সম্পাদিত হচ্ছে। যুদ্ধবিমান ছাড়াও বাংলাদেশ বিমানবাহিনী অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, দূরপাল্লার রাডার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম কেনার কারিগরি মূল্যায়ন চালাচ্ছে। পাশাপাশি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বগুড়ায় নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি স্থাপনের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।
কেন জে-১০সিই বিমানকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে? সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার সময় ফরাসি তৈরি দামি ‘রাফাল’ যুদ্ধবিমানের বিপরীতে চীনের তৈরি ‘জে-১০সিই’ বিমানের সুপিরিয়রিটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ৪.৫ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমানটি রাফালের চেয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম খরচের হলেও এর রাডার ও ডগফাইট সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে কেবল প্রতিরক্ষামূলক বিমান রয়েছে। শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উড়তে সক্ষম এবং ছোট রানওয়ে ব্যবহারে পারদর্শী জে-১০সিই যুক্ত হলে বিমানবাহিনী প্রথমবারের মতো আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরোধমূলক— উভয় ক্ষমতাই অর্জন করবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে জে-১০ বিমানটির সাম্প্রতিক সাফল্য বিবেচনা করেই সরকার এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























