
সুনামগঞ্জের ছাতকের পর এবার দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রধান সড়ক ও সুরমা নদীতীরবর্তী এলাকার পাঁচ শতাধিক প্রাচীন ও ফলদ-বনজ গাছ কেটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। কয়েক দশক ধরে এসব গাছ একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছিল, অন্যদিকে বর্ষাকালে নদীভাঙন থেকে রক্ষা করত আশপাশের গ্রাম ও সড়ককে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো বিকল্প রোপণ পরিকল্পনা ছাড়াই এভাবে নির্বিচারে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত চরম পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
উপজেলা বন বিভাগ ও সওজ সূত্রে জানা গেছে, দোয়ারাবাজার-বাংলাবাজার সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ ও কার্পেটিং কাজের সুবিধার্থে মোট ৫১৫টি গাছ চিহ্নিত (মার্ক) করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র ও সামাজিক বনায়নের আওতায় এসব গাছ নিলামে তোলার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শিগগিরই নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছগুলো কেটে ফেলা শুরু করবে।
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, কাটতে যাওয়া গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে বহু বছরের পুরোনো মেহগনি, রেইনট্রি, কড়ই, দেবদারু ও কাঁঠাল গাছ। বন বিভাগের আনুমানিক হিসাবে, এসব গাছ থেকে প্রায় চার হাজার ঘনফুট কাঠ ও তিন হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ পাওয়া যাবে, যা থেকে সরকারের রাজস্ব ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের একাংশ লভ্যাংশ পাবেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদরা সওজ-এর এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দোয়ারাবাজারের এই সড়কটির বেশ কয়েকটি অংশ সরাসরি নদীঘেঁষা। পুরোনো গাছের বিশাল শিকড় এতকাল তীরবর্তী মাটিকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছিল। গাছগুলো কেটে ফেলা হলে বর্ষায় সুরমা নদীর উপচে পড়া ঢেউ ও তীব্র স্রোতে মুহূর্তেই তীরের মাটি আলগা হয়ে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেবে।
সড়কে চলাচলকারী একাধিক যানচালক ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, গরমের দিনে এসব পুরোনো গাছ পথচারীদের প্রখর রোদ থেকে ছায়া দিত। নতুন করে গাছ লাগানোর কোনো উদ্যোগ না নিয়ে এভাবে সারিবদ্ধ গাছ কেটে ফেললে পরিবেশের পাশাপাশি যাতায়াতব্যবস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা দাবি করছেন, উন্নয়ন কাজের প্রয়োজন হলেও পরিবেশ ধ্বংস না করে এবং অন্তত একটি গাছের বিপরীতে পাঁচটি নতুন চারা রোপণের সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা রেখে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত।
এ বিষয়ে স্থানীয় বন কর্মকর্তা জানান, সড়ক সম্প্রসারণের স্বার্থে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনেই সব নিয়ম মেনে গাছগুলো চিহ্নিত ও নিলামের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে উন্নয়ন কাজের পর খালি জায়গায় পুনরায় বনায়নের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।
অনলাইন ডেস্ক 
























