
বাংলাদেশে আর যেন কখনো কোনো ফ্যাসিস্টের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সাথে শুধু অন্ধ বিরোধিতার রাজনীতি না করে, বিগত দিনের অপরাধ ও হত্যাকাণ্ড দেখেও যারা চুপ আছেন, তাদের চোখ খুলে সঠিক সত্য দেখার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীস্থ হোটেল শেরাটনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চোখে আলো থাকলেও সমাজে অনেকের বিবেক অন্ধ সমাজের অধিকাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, দৃশ্যমান দৃষ্টিশক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার নন এবং মানবিক মূল্যবোধ বা মানুষের মৌলিক অধিকার দেখতে পান না। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সততা ও মানবিকতার পরিচয় দিলেও সমাজে শারীরিকভাবে দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন বহু মানুষ আত্মকেন্দ্রিকতায় নিমজ্জিত রয়েছেন।
জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের করুণ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১,৪০০ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অসংখ্য মানুষ অঙ্গ হারিয়ে প্রতিবন্ধিত্ব বরণ করেছেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর মাথার অংশ বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু নির্মম এই সত্য জেনেও সমাজের একশ্রেণির মানুষ এখনো তা অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন।
সুশীল সমাজ ও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
-
সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও গঠনমূলক সমালোচনা: “আমরা যদি কোনো ভুল করি, নাগরিক হিসেবে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দিন,”— মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
-
সত্য উপলব্ধি: যারা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে বা তাদের অপরাধ ঢাকতে ব্যস্ত, তাদের আত্মোপলব্ধি করে সত্যের পক্ষে আসার আহ্বান জানান তিনি।
গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার রূপরেখা একটি বাসযোগ্য, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কেবল জন্মভূমি নয়, কখনো কখনো দেশ মায়ের চেয়েও বড় স্থান দখল করে। তাই হিংসা-বিদ্বেষ ও অন্ধ বিরোধিতা ভুলে সবাইকে একসাথে পথ চলার বার্তা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হওয়া এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:
-
বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)
-
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান (সভাপতি, ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ সা.)
-
এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি (প্রথম কাউন্সিলর, ইরান দূতাবাস)
-
ওসমান এরশাদ ফয়েজ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি)
-
এনামুল হক (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক)
অনলাইন ডেস্ক 

























