
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধেই হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস মিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তবে প্রাথমিক গুঞ্জনের বিপরীতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি বলে স্পষ্ট করেন পুলিশ কমিশনার। ভিকটিমদের শরীর থেকে পাওয়া সোয়াব পরীক্ষার পর ধর্ষণের বিষয়টি নাকচ করা হয় এবং ডোমের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে জানানো হয় যে, শ্বাসরোধে মৃত্যুর পর মানবদেহের স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ওই আলামত পাওয়া গিয়েছিল।
এ ঘটনায় জড়িতদের অবস্থান ও মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে:
-
আদালতে স্বীকারোক্তি: দখিগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস তার কাছে পানি চেয়ে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।
-
জমি সংক্রান্ত বিরোধের কোণ: সিদ্ধার্থ দাসের পূর্বপুরুষদের থেকে জমি কিনে বাড়ি বানিয়েছিলেন গণপতি চক্রবর্তী। সেই জমি বিক্রির টাকার ভাগাভাগি এবং মূল্য নির্ধারণ নিয়ে তাদের স্বজনদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, মূল অপরাধের নেপথ্যে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি এই পুরোনো জমি সংক্রান্ত ক্ষোভের প্রভাব থাকতে পারে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
অনলাইন ডেস্ক 
























