
পাবনা গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের বিরুদ্ধে উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ। চাকরির সুবাদে বেআইনি উপায়ে উত্তরার বিলাসবহুল স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট, পাবনায় বসতবাড়ি এবং ভাঙ্গুড়ায় বিপুল পরিমাণ জমিসহ শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
নির্মাণকাজে জালিয়াতি ও টেন্ডার হরিলুট পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে ১০ তলা মূল ভবনের বেইজমেন্ট পিলারে পাথরের বদলে ইটের খোয়া ব্যবহারের খবর স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। তবে প্রকৌশলী রাশেদ কবির বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সাজিন কনস্ট্রাকশন’-এর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এছাড়া, হাসপাতালের মূল কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও পিপিআর বিধি লঙ্ঘন করে এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের স্বাক্ষর জাল করে দরপত্র আহ্বানের অভিযোগ উঠেছে। ‘এ’ ব্লকের ছাদে গ্লাস টাওয়ার নির্মাণের নামে প্রায় ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। কাজ শেষ না হলেও রিমেইনিং ওয়ার্কসের নামে ৬টি গ্রুপের মাধ্যমে ২৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে।
ঠিকাদার ও গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর নির্যাতন অনিয়মের প্রতিবাদকারী এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রবীণ ঠিকাদার মিনহাজ উদ্দিন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় এবং রাজশাহী জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কাছে চিঠি পাঠানোয় তাকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় ও ভুয়া প্যাডে চিঠি লেখানো হয় বলে জানা গেছে।
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের আবাসন কান্ড মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসন প্রকল্পের ১১টি ভবনে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনায় সরকারি প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় আটগুণ বেশি অর্থ খরচ দেখানো হয়েছে।
-
প্রাক্কলিত দর: প্রায় ২৭ কোটি টাকা
-
অনুমোদিত বিল: ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা
-
অতিরিক্ত ব্যয়: প্রায় ১৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা
একটি ভবনেই নির্ধারিত ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার যন্ত্রপাতির বিপরীতে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিল তুলে ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অনিয়ম করা হয়েছে। এতে মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, সাজিন এন্টারপ্রাইজ এবং এমএসসিএল-জিকেবিপিএল যৌথ উদ্যোগ অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়।
সিএজি প্রতিবেদনে অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপচয়কৃত ১৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা সরকারি তহবিলে ফেরত আনার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবীরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনলাইন ডেস্ক 





















