
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদলের এক নেতার হাতে শিবিরের এক নেতা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে এবং প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অস্ত্র হাতে বহিরাগতদের উপস্থিতি: সংঘর্ষ চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে অন্তত ১৯ জন বহিরাগত অস্ত্রধারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—
-
পদমদি গ্রাম: বিএনপিকর্মী মানওয়ার, ইমন বিশ্বাস এবং রাইসুল (মদনডাঙা হাই স্কুলের এসএসসি ’২৬ ব্যাচ)।
-
শেখপাড়া এলাকা: যুবদলের হামিম, সানওয়ার, রাজিব, এছাড়া জিম মণ্ডল, নিবিড় মণ্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ।
-
অন্যান্য এলাকা: শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় এবং চরশান্তিডাঙার ১০ম শ্রেণির ছাত্র মিকদাদ।
অস্ত্রের উপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপিকর্মী মানওয়ার দাবি করেন, “আমরা ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকিনি। জামায়াতের উস্কানির জবাবে ধাওয়া দিয়েছিলাম। আমাদের হাতে শুধু লাঠি ছিল, কোনো অস্ত্র ছিল না।”
ছাত্রদলের বক্তব্য: বহিরাগত ও অস্ত্রধারীদের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, “আমরা কোনো বহিরাগত আনিনি। বিক্ষুব্ধ জনতা হয়তো এসে থাকতে পারে। সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, আমরা তাদের ওপর আস্থাশীল।” তবে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুনের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ: রোববার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ যৌথভাবে আইডি কার্ড পরীক্ষা করে শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। এদিকে ক্যাম্পাসে জামায়াত-শিবিরের তৎপড়তা দেখা না গেলেও প্রধান ফটকে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল শোডাউন ও স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
-
তদন্ত কমিটি: ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সেলিম জানান, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
-
প্রক্টর ও উপাচার্যের আশ্বস্তকরণ: প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
-
পুলিশের বক্তব্য: ইবি থানার ওসি মামুনুর রশিদ জানান, ভিডিওতে দেখা যাওয়া বহিরাগত অস্ত্রধারীদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। আহতদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক 























