
সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে দুনিয়া, কোটি টাকার স্পন্সরশিপ আর ভার্চ্যুয়াল অনুসারীদের ভিড় ঠেলে এক বছর আগে ইনস্টাগ্রামকে বিদায় জানিয়েছিলেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রযোজক ঐশ্বরিিয়া লক্ষ্মী। সামাজিক মাধ্যমে না থাকার কারণে ক্যারিয়ারে একাধিক আর্থিক সুযোগ হাতছাড়া হলেও, বর্তমানের মানসিক শান্তিকে কোটি টাকার চেয়েও মূল্যবান বলে মনে করছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনোদনভিত্তিক মাধ্যম ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইনস্টাগ্রাম ছাড়ার কারণ, এআই-এর অপব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়ার বিষাক্ত পরিবেশ এবং জীবনের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
ঐশ্বরিয়া জানান, শুরুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য দূরে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না। কাজের প্রয়োজনে সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করেছিলেন। কিন্তু প্ল্যাটফর্ম জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিকৃত ছবি-ভিডিও এবং তারকাদের নিয়ে ‘অশ্লীল এডিটিং সংস্কৃতি’ তাকে চরমভাবে বিরক্ত ও ক্লান্ত করে তোলে। ক্রমাগত ভার্চ্যুয়াল দর্শকের জন্য নিজেকে উপস্থাপন করার চাপ থেকে মুক্ত হতে পেরে তিনি এখন একজন মানুষ হিসেবে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও সুখে আছেন।
ইনস্টাগ্রাম না থাকায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে স্বীকার করে ঐশ্বরিয়া জানান, তার ম্যানেজার ও এজেন্টরা প্রায়ই তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেরাতে চান। তাদের মতে, সক্রিয় না থাকায় মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। তবে ঐশ্বরিয়ার স্পষ্ট বক্তব্য—ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া থেকে দূরে থেকে যে মানসিক ভারসাম্য তিনি পেয়েছেন, তার মূল্য ওই অর্থের চেয়ে বহুগুণ বেশি।
তিনি চান তার অভিনয়ই তার পরিচয় হোক। ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্টের ক্ষেত্রেও তিনি শর্ত জানিয়ে দেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। যারা এই শর্তে রাজি হন, কেবল তাদের সঙ্গেই কাজ করেন তিনি। আর এই কৌশলেই চমৎকার সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকতে হাজার হাজার নেতিবাচক মন্তব্য ও ট্রোলিং পড়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তেন ঐশ্বরিয়া। মনে হতো পুরো বিশ্ব তার বিরুদ্ধে। কিন্তু ইনস্টাগ্রাম ছাড়ার পর সেই ট্রোলিং ও বিষাক্ত অনুভূতি থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত। এখন বাস্তব জীবনে মানুষের মুখোমুখি হতে আর কোনো ভীতি কাজ করে না।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সিনেমা ছাড়া জীবনে অন্য কিছু না থাকলেও, এখন দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে ঐশ্বরিয়ার। তিনি বলেন, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সিনেমা আমার জীবনের একটি অংশ মাত্র, পুরো জীবন নয়। এখন কেবল সেই কাজগুলোই করতে চাই যা সত্যি উপভোগ করি। বছরে একটি ভালো ছবি করলেও আমি তৃপ্ত।”
ভারতের তিরুবনন্তপুরমের একটি চিকিৎসক পরিবার থেকে আসা ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী নিজে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক ছিলেন। ২০১৭ সালে মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘নান্দুকালুদে নাটিল ওরিদাভেলা’-এর মাধ্যমে অভিনয় জগতে আসেন। একই বছর ‘মায়ানাদী’ এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ফাসিলের বিপরীতে ‘ভারাথান’ ছবিতে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান।
এরপর তামিল চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বিশেষ করে প্রখ্যাত পরিচালক মণি রত্নমের ব্লকবাস্টার হিট ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার অভিনয় আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা কুড়ায়। এছাড়া ‘কানেক্কানে’, ‘আম্মু’, ‘কুমারী’, ‘গাট্টা কুস্তি’, ‘হ্যালো মাম্মি’ এবং সুরির সঙ্গে ‘মামান’-এর মতো বেশ কিছু আলোচিত চলচ্চিত্রে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের ঝুলিতে সাফল্য জমা করেছেন।
অনলাইন ডেস্ক 

























