
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) প্রধান কর্মচারী কর্মকর্তা (সিওপি) আ.ন.ম. শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে বৈষম্য, আর্থিক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিসিআইসিতে প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর টানা হয়রানি ও নির্যাতন চালানোর অভিযোগে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরাম’-এর সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুল মতিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।
জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও দুর্নীতির পাহাড় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং জ্যেষ্ঠতার তালিকা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে শরীফুল আলমকে সিওপি পদে বসানো হয়। এখনও তিনি বহাল তবিয়তে সেই পদে রয়ে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিসিআইসির আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও বাসা বরাদ্দের নামে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করেছেন। এছাড়া দাপ্তরিক সফরের অজুহাতে দলবল নিয়ে ব্যক্তিগত ও সামাজিক অনুষ্ঠান উদযাপন করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং পরিদর্শনের নামে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রাতারাতি রূপ বদল ও নতুন চক্রান্ত সংগঠনটি জানায়, বিগত সরকারের সময় শরীফুল আলম তাঁর পিতাকে থানা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা হাসিল করেন। এমনকি ১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে গঠিত ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু উদযাপন কমিটি’র আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে তাঁর সরাসরি যোগাযোগের নানা ছবি ও প্রমাণাদি ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি কৌশল বদলে বিএনপি-সমর্থক সাজেন। কৌশলে জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরামের সহ-সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়ে তিনি সংগঠনের ভেতরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই একের পর এক হয়রানিমূলক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সবশেষে সংগঠনটির বৈধতা ও অস্তিত্ব চ্যালেঞ্জ করে নিজের মনমতো তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন, যা ফোরামটিকে চরম অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে।
শিল্পমন্ত্রী ও বিসিআইসি প্রধানের কাছে স্মারকলিপি তাঁর এসব অপকর্মে প্রতিষ্ঠানে চরম অসন্তোষ ছড়াচ্ছে এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শিল্পমন্ত্রী, শিল্প সচিব এবং বিসিআইসির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। এতে শরীফুল আলমকে সিওপি পদ থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার, অফিসে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিরপেক্ষ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ‘আওয়ামী দোসর’ শরীফুল আলমকে দ্রুত পদচ্যুত করে বিসিআইসিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।
অনলাইন ডেস্ক 




















