
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল—নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)—দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা করতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড (DP World)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ মিলনায়তনে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক ঐতিহাসিক কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
পিপিপি মডেল: সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (PPP) কাঠামোর আওতায় ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ইনক্লুডিং ওভারফ্লো ইয়ার্ড’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্য: আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে টার্মিনালের সেবা এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো।
সরকারি অনুমোদন: এর আগে ১ অক্টোবর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পেশ করা এই চুক্তির খসড়া নীতিগত অনুমোদন পায়।
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর প্রধান চারটি টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ।
গত অর্থবছরে এ টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে।
এটি চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ একাই সামাল দেয়।
বর্তমানে এনসিটি পরিচালনায় রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড। ডিপি ওয়ার্ল্ড আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (NCT) ডিপি ওয়ার্ল্ড (সংযুক্ত আরব আমিরাত) — চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (PCT) রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (সৌদি আরব)
চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (CCT) দেশীয় অপারেটর
জেনারেল কার্গো বার্থ (GCB) দেশীয় অপারেটর
ক্ষোভ ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে একাধিক সংগঠন।
গত ৫ অক্টোবর বন্দর রক্ষা কমিটি টার্মিনাল ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই চুক্তি বাতিল করা না হলে চট্টগ্রাম বন্দর ঘেরাওসহ সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক 



















