
বর্ণিল সাজে ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) উদ্যাপন করা হয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যাপীঠটি বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ২২টি বিভাগ এবং আট হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এক প্রাণবন্ত ক্যাম্পাসে রূপ নিয়েছে।
দিবসটির সূচনায় সকালে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন-পায়রা ওড়ানো হয়। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান এবং আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম।
উদ্বোধনের পর প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। প্রশাসনিক ভবনের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রধান ফটক ও শহীদ আবু সাঈদ চত্বরসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি স্বাধীনতা স্মারক মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এরপর বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে এক জমজমাট ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ও আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছি, তা একনেকে পাস হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে।”
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান জানান, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের পর বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। ইউজিসি ও বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রকল্পটি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উত্তরবঙ্গ বা বাংলাদেশ নয়, গোটা পৃথিবীর বুকে একটি অনন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























