
রাজধানীর মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে থেকে শিফা আহাম্মেদ নামের এক নারী এবং তাঁর আট বছর বয়সী শিশুকে কৌশলে অপহরণ করে সারারাত নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা, মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়, প্রাণনাশের হুমকি এবং বাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের পর এই অপহরণের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিফা আহাম্মেদ রাজধানীর মান্ডা এলাকার দানবের গলির বাসিন্দা। তাঁর মৃত পিতার নাম সাদেক এবং মাতার নাম মরহুমা সমিরুন্নেসা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পরিচিত মতিন ইসলামের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার জন্য শিফা টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর পরিচিত ইসমাইল, ইমন, জুয়েল, হৃদয় ও সজীব—এই পাঁচ ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল ও অন্যান্য ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য টাকা জমা দেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে, ব্যবহৃত ভিসাগুলো জাল ছিল।
ভিসা জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে শিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে তাঁর বাসায় একাধিকবার হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও নগদ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিফা আরও জানান, অভিযুক্ত মামুন, ইমন ও জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধের শেষ সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা দিতে না পারলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
হুমকির মুখে ঋণের টাকা সংগ্রহের জন্য গত ১৫ অক্টোবর শিফা মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে গেলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর আট বছর বয়সী ভাতিজাকে কৌশলে তুলে নিয়ে যায়। একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাঁকে মারধর এবং সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে সারারাত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় বারবার যোগাযোগ করেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতায় ওই নারী ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
অনলাইন ডেস্ক 





















