
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লোভনীয় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নিজেকে কখনো সেনাপ্রধান, আইজি, ডিআইজি কিংবা মন্ত্রীর ছেলে পরিচয় দেওয়া এক দুর্ধর্ষ প্রতারকের নাম আব্দুল মোতালেব সরদার। শুধু চাকরি নয়, ডিভোর্সি ও অসহায় নারীদের বিয়ের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেব কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার বুজরুথ গ্রামের মৃত মতিন সরদারের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল কাঁচামালের আড়ত-সংলগ্ন বসুন্ধরা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
অনুসন্ধানে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোতালেব ও তার একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সহজ-সরল চাকরিপ্রত্যাশীদের টার্গেট করে আসছে। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা ভিআইপিদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। ভুক্তভোগীদের অনেকের সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
পাশাপাশি, ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে প্রতারণার এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে ডিভোর্সি ও অসহায় নারীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ তার নামের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একসময় তিনি নিজেকে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর পালিত পুত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। এই ভুয়া পরিচয়ের আড়ালেই তিনি গড়ে তুলেছেন অপরাধের সাম্রাজ্য। ভুক্তভোগীদের দাবি, মোতালেবের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ এবং হত্যাসহ গুরুতর অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ‘হ্যাঁ, আমি জাসদ করি। হাসানুল হক ইনুকে আমি একটা সময় বাবা ডাকতাম। আমার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে পাঁচটা হত্যা মামলা আছে।’
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেস্ক 





















