
সমাজে অপরাধ, অশ্লীলতা এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ হিসেবে মাদককে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এই ভয়ংকর ব্যাধি এখন বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। ইসলামে সব ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ইসলামে মাদকের বিধান ও কোরআন-হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি
পবিত্র কোরআনে মাদককে শয়তানের অপবিত্র কাজ হিসেবে উল্লেখ করে তা বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সুরা মায়িদা: ৯০)। এছাড়া মহানবী (সা.) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই মদ, আর প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই হারাম” (মুসলিম: ২০০৩)। যুগের পরিবর্তনে ইয়াবা, ফেনসিডিল বা হেরোইনের মতো নানা আধুনিক নাম ও রূপে মাদক আসলেও, নেশা ও মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটায় এমন যেকোনো দ্রব্যই এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
মাদক কেন সব পাপের উৎস?
হজরত উসমান (রা.)-এর একটি ঐতিহাসিক ঘটনার বর্ণনায় মাদককে সব অপকর্মের চাবিকাঠি বলা হয়েছে। অতীতের এক ইবাদতগুজার ব্যক্তির মাদকাসক্তির কারণে মাতাল হয়ে ব্যভিচার ও শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন—মদ ও ইমান কখনো একসঙ্গে থাকতে পারে না। বর্তমান সমাজে চুরি, ছিনতাই, খুন ও অনৈতিকতার বড় একটি অংশই মাদকাসক্তির ফল। মাদক শুধু অপরাধই বাড়ায় না, বরং এর প্রভাবে টানা ৪০ দিন ইবাদত কবুল হয় না বলেও হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে (ইবনে মাজাহ: ৩৩৭৭)।
মাদকাসক্তির কারণ ও মুক্তির পথ
মূল কারণসমূহ: অসৎ সঙ্গ, অতিরিক্ত কৌতূহল, হতাশা, পারিবারিক অশান্তি এবং মানসিক চাপ মূলত মানুষকে মাদকের দিকে ঠেলে দেয়।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ: কেবল আইনি শাস্তি দিয়ে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সাহাবায়ে কেরামের আমলের মতো ঐতিহাসিক দৃঢ়তা, পারিবারিক সতর্কতা, সন্তানের প্রতি সঠিক নজরদারি এবং আত্মিক পরিশুদ্ধি।
অনলাইন ডেস্ক 

























