
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাশুর রোডে একটি প্লাস্টিকের খেলনা কারখানায় ঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাকিব নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন, যাদের মধ্যে একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটির আটতলায় খেলনায় রং করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতরে প্রচুর পরিমাণে থিনার ও দাহ্য রাসায়নিক থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পোস্তগোলা ও গুলিস্তান ফায়ার স্টেশন থেকে আরও সাতটি ইউনিট যুক্ত হয়। ফায়ার সার্ভিসের মোট আটটি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তা পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে কারখানাটিতে কোনো ধরনের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান। তিনি জানান, ভবনটির বৈধ অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স কিংবা ফায়ার সেফটি প্ল্যান আছে কি না, তা আগুন নেভানোর পর যাচাই করে দেখা হবে। এছাড়া ওই এলাকার সরু রাস্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানাগুলোর বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এই দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদনান জুলফিকারকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























