Dhaka ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ জরিমানা ছাড়াই গাড়ির কাগজ ও লাইসেন্স হালনাগাদের মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, ভোগান্তি এড়াতে অনতিবিলম্বে সুযোগ গ্রহণের পরামর্শ বিআরটিএ ও সচেতন মহলের! যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ফুলব্রাইটের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ ইউজিসির শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ: শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার আগ্রহ সখীপুরে কৃষিজমির মাটি খুঁড়ে মিলল ১৯৭১ সালের পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের অস্ত্রভাণ্ডার! জুলাই অভ্যুত্থান পেরোলেও বদলায়নি চিত্র: বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাই এখন সচিব! বরগুনার গাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ ৫. অবৈধ সম্পদ অর্জন: সাবেক সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দিন দম্পতির ব্যাংক হিসাব জব্দ দুদকের আবেদন: ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ আদালতের ৬ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ বহাল: হাইকোর্টে খারিজ রিট

টাঙ্গাইলে নামজারি করিয়ে দেওয়ার নামে দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ, কাঠগড়ায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালিকাভুক্ত দলিল লেখক (সনদ নং- ৭৯৩) মো. মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে জমির খারিজ (নামজারি) করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দলিল জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ধুবড়িয়া পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ মো. মাছেম আলী (৭০) জানান, তিনি তাঁর ৪২ শতাংশ জমি খারিজ করানোর জন্য সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মতিয়ার রহমানের শরণাপন্ন হন। সমস্ত কাগজপত্র যাচাই করে মতিয়ার রহমান দাবি করেন, মূল দলিলে ‘জমির শ্রেণি’ ও ‘খতিয়ান নম্বরে’ ভুল রয়েছে। এসব ভুল সংশোধন করে খারিজ সম্পন্ন করতে হবে এবং এর জন্য ১৫ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান তিনি।

বৃদ্ধ মাছেম আলীর অভিযোগ, মতিয়ার রহমান তাঁকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করেন এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, অফিসে যোগাযোগ করলে কাজের গতি ধীর হয়ে যাবে এবং দেওয়া টাকাও আর ফেরত পাওয়া যাবে না।

গত ৩ আগস্ট ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি নামজারি আবেদন জমা দেওয়া হয় (মামলা নং: ১০৩১(IX-I)২০২৬-২৭, আবেদন নং: ১৬১৮৮৪২১)। পরবর্তীতে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ভুক্তভোগীকে মূল দলিলসহ তলব করেন।

নথিপত্র যাচাই করতে গিয়েই বড় ধরনের জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। ভুক্তভোগীর মূল দলিলে খতিয়ান নম্বর ১০৪৫ এবং জমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ লেখা থাকলেও, অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনে খতিয়ান নম্বর পরিবর্তন করে ১০৮৮ এবং শ্রেণি ‘কান্দা’ উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ‘অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনের তথ্যের সঙ্গে মূল দলিলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। আবেদনটিতে স্পষ্ট দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। তাই আমি এটি নামঞ্জুরের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ মাছেম আলী বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেই ভাতিজার কাছে জমি বিক্রি করেছি। কিন্তু নামজারি সম্পন্ন না হওয়ায় আমি এখনো ক্রেতাকে দলিল বুঝিয়ে দিতে পারছি না। মতিয়ার চেয়ারম্যান বিভিন্ন অজুহাতে শুধু কালক্ষেপণ করছেন। আমি দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চাই এবং আমার জমানো টাকা ফেরতসহ নামজারি সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।’

এদিকে, শুধু মাছেম আলীই নন, একই কায়দায় ধুবড়িয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ব্যক্তির ১৬ শতাংশ জমি নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মো. মতিয়ার রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওমর কাউসার ও সুমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, নীরব কর্তৃপক্ষ