
আওয়ামী আমলাখ্যাত বিসিএস ২১ ব্যাচের কর্মকর্তা আসিব আহসান এখনো বহাল তবিয়তে চাকুরীতে।
বিসিএস ২১ ব্যাচের কর্মকর্তা আসিব আহসান ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব হিসেবে বহাল তবিয়তে কর্মরত রয়েছেন।”
অনুসন্ধানে দেখা যায় তিনি রংপুরের ডিসি থাকাকালীন (২০১৯-২০২২) স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উপ-নির্বাচন বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ও বিরোধী মত দমনে ভূমিকা রেখেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসক থাকা অবস্থায় তিনি নিজেকে রংপুরের অন্যতম প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে জাহির করতেন। তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সংসদ সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান এবং সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে তিনি রংপুরে আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাব বলয় কায়েম করেছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি গোপন তালিকায় বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগী ও পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে তাঁর নাম রয়েছে। রংপুর এবং সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়মিত সরকারি প্রটোকল লঙ্ঘন করে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতেন এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রংপুরের ডিসি ও পরবর্তীতে সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার থাকাকালীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে বিএনপি, জামায়াত ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি ও মামলা-হামলার মাধ্যমে হয়রানি করার জোরালো অভিযোগ রয়েছে।”
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী এবং ছাত্রদল, যুবদলসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানির নেপথ্যে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির ডামি একতরফা নির্বাচনে সিলেট বিভাগের তৎকালীন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন আসিব আহসান। পুলিশ, প্রশাসন ও দলীয় নেতাদের যোগসাজশে তিনি নির্বাচনের নীল নকশা বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করেন ।
রংপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২১ সালে স্থানীয় আটটি দৈনিক সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন (ঘোষণাপত্র) একযোগে বাতিল করেন আসিব আহসান, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল।
রংপুরে থাকাকালীন এই সরকারি কর্মকর্তার সাথে দহরম মহরম সম্পর্ক ছিলো কুখ্যাত পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমারের। বিএনপি- জামায়াতের অসংখ্য নেতা কর্মীদের হয়রানি/নির্যাতন এর সাথে জড়িত বিপ্লব কুমারের সাথে মিলে তিনি রংপুরে ভীতিকর এক পরিবেশ তৈরি করেছিল।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের পদও বাগিয়ে নিয়েছিলেন এই কর্মকর্তা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি প্রথমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে আত্মগোপন করেন।
এই প্রশাসনিক ভূমিকার কারণেই মূলত ২০২৪ সালের আগস্টে পদায়নের ক্ষেত্রে তিনি সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন।
সেখানে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ ও ক্ষোভের মুখে পড়লেও পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে পদায়ন বাগিয়ে নেন। স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভেতরে পুরনো ব্যবস্থার প্রভাব থাকলে সরকারকে একসময় মূল্য দিতে হবে বলেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা।
তারা আরও মনে করেন এইসব কট্টর আওয়ামী অফিসাররা যুগ্ন সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পরে সচিব।যা সরকারের জন্যেই সমস্যাজনক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















