
তৈরি করা ভুয়া দলিল, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং জোরপূর্বক জমি দখলের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জজ কোর্টের সহকারী পিপি (এপিপি) শাহানা সুলতানা এবং তার স্বামী ঘোড়াশাল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম নাসিমের বিরুদ্ধে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর খোলস পাল্টে বিএনপি সমর্থক বনে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের এই শেল্টারে এলাকার সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. মাকছুদুল ইসলাম (নাঈম) ও স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এই দম্পতি সাধারণ মানুষের ওপর নানা নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রবাসী মাকছুদুল ইসলাম নাঈম জানান, তার বাবা মৃত ডা. নজরুল ইসলামের রেখে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন সৎ ভাই মনোয়ারুল ইসলাম নাসিম। কিন্তু নাঈম প্রবাস থেকে দেশে এসে তার সম্পত্তির ভাগ বুঝে নিতে চাইলে শুরু হয় নানা তালবাহানা। উল্টো নাসিম ও তার স্ত্রী এপিপি শাহানা সুলতানা ভুয়া দলিল তৈরি করে ওই সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা চালান।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাঈম জানান, ২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর এপিপি শাহানা সুলতানা তার মোবাইল নম্বর (০১৮১৮-৬৬২৩৩৩) থেকে নাঈমের মা বেগম রেহেনা ইসলামের নম্বরে (০১৭১১-৬৭৬৬৩৯) কল দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর পলাশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১০৩২) করা হয়। এর জের ধরে ২০২২ সালের ২০ মার্চ মো. মনোয়ারুল ইসলাম নাসিমের নেতৃত্বে শাহানা সুলতানা, সানোয়ার (সাবেক সহ-সভাপতি যুবদল), হেলাল উদ্দিন, আল-আমিনসহ স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী অতর্কিত হামলা চালায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের বাধায় সেই দফায় জমি দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এছাড়া ২০২৩ সালের ৬ জুন পলাশ থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৩২) করেন ভুক্তভোগী। প্রবাসীর অভিযোগ, তৎকালীন পলাশ থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াস, নরসিংদী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এবং এডিশনাল ডিআইজি জেসমিন বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তিনি কোনো সঠিক প্রতিকার পাননি।
অভিযোগ রয়েছে, স্বপন চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তিকে বিক্রেতা সাজিয়ে ১২ শতাংশ জমি ক্রয়ের ভুয়া কাগজ তৈরি করা হয়েছে, যার আসল মালিক মাকছুদুল ইসলাম নাঈম (রেজিস্ট্রি তথ্য: ৫৩৬/২০১৮)। আইন পেশার অপব্যবহার করে এপিপি শাহানা সুলতানা নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার জাল বিস্তার করেছেন।
মামলার হয়রানির একটি দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে ভুক্তভোগীরা জানান, মোহাম্মদপুর থানায় (মামলা নং- ৮৯৮/২৫, বাদী আবদুল মুন্নাফ), হাতিরঝিল থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র গণহত্যার মামলা এবং যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় এমন অনেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে যারা গত ৫ বছর ধরে বাংলাদেশেই আসেননি। এমনকি প্রবাসী নাঈমকে ফাঁসাতে ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ৩২৩, ৩৭৯, ৩৭৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৫০৬ ধারায় একটি ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করা হয়।
আমেরিকাপ্রবাসী মো. মাকছুদুল ইসলাম নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এপিপি শাহানা সুলতানা আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন যে দেশে ফিরলেই মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করাবেন। অথচ আমার বয়োবৃদ্ধ মা বেগম রেহেনা ইসলাম বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। মাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করলেও এই প্রভাবশালী দম্পতির মিথ্যা মামলার ভয়ে আমি দেশে যেতে পারছি না।”
আইনজীবী হয়েও আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা সাধারণ মানুষের সম্পত্তি আত্মসাৎ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন, সেই ভূমিদস্যু এপিপি শাহানা সুলতানা ও মনোয়ারুল ইসলাম নাসিমকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
অনলাইন ডেস্ক 


















