
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা ওষুধ, কেমিক্যাল ও চিকিৎসাসামগ্রী গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ছুটির দিনে তড়িঘড়ি করে চালানপত্র ছাড়াই মালামাল স্টোরে জমা নেওয়া এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি এই সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ শহরের উকিলপাড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শফিকুল আলম রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ পায়। এই টেন্ডারের মোট মূল্য নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি প্রায় ৬০ লাখ টাকার টেন্ডার হলেও ঠিকাদার শফিকুল আলম বলছেন এর প্রকৃত মূল্য ৪৫ লাখ টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের স্টোরকিপার সাদেকুল ইসলামের সাথে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম মালামাল সরবরাহ করতে পারেন। যেখানে কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার কথা, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র হতে পারে।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে একটি ট্রাকে করে কিছু সরঞ্জাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এ সময় স্টোরকিপার সাদেকুল ইসলামের কাছে মালামালের চালানপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। ছুটির দিনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রয় কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই কীভাবে এই মালামাল গ্রহণ করা হলো, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। এমনকি স্টোরকিপারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেও জানেন না ঠিক কত টাকার মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী সরকারি যেকোনো কেনাকাটায় কার্যাদেশ, চুক্তির শর্ত, পণ্যের ব্র্যান্ড, মান ও পরিমাণ যাচাই করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্টোরকিপার সাদেকুল ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষেই মালগুলো স্টোরে রেখেছি। চালানপত্র বাসায় রেখে এসেছি।”
অন্যদিকে ঠিকাদার শফিকুল আলম দাবি করেন, চুক্তি অনুযায়ী কয়েক ধাপে মালামাল সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। পূজার ছুটির পর বাকি মালামাল আসবে এবং এতে কোনো লুকোচুরি নেই।
তবে পুরো ঘটনায় রহস্যজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছেন রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে এইচ এম ইফতেখারুল আলম খান। টেন্ডারের মূল্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং লিখিত আবেদন করার কথা বলেন। ছুটির দিনে মালামাল গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “শুক্রবারও ট্রাকভর্তি মাল নেওয়া যায়, এতে সমস্যা কোথায়?”
খোদ স্টোরকিপার একা মালামাল বুঝ নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দাবি করেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পরে গিয়ে মালামাল বুঝে নিয়েছেন। তবে মালামাল গ্রহণের সময় কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা প্রাথমিক যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি সদুত্তর এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই টেন্ডার বা সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঠিকাদারের সরবরাহকৃত চিকিৎসা সরঞ্জামের পরিমাণ, মান এবং টেন্ডারের প্রকৃত শর্ত শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে যাচাই করে খতিয়ে দেখা হোক।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















