
পোল্যান্ডে সাংবিধানিক আদালতের নেতৃত্ব ও বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের সরকার এবং জাতীয়তাবাদী বিরোধী দল আইন ও বিচার পার্টির (পিআইএস) মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ওয়ারশতে আদালতের বাইরে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আদালতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বরখাস্তের ঘোষণা: বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জোটের নির্বাচিত বিচারপতিরা সাংবিধানিক আদালতের প্রেসিডেন্ট বোগদান শভিয়েচকোভস্কি ও ডেপুটি বার্তলোমেই সোখানস্কিকে এক মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেন। এরপর বিচারপতি আনা কোরভিন-পিওত্রোভস্কা নিজে দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিলে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অন্যদিকে, বিচারমন্ত্রী ওয়ালদেমার জুরেক বরখাস্ত দুই বিচারপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
রাজপথে বিক্ষোভ ও প্রেসিডেন্টের দেশে ফেরা: আদালতের এই পরিস্থিতি ঘিরে শুক্রবার রাতে ভবনের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। আদালত চত্বরে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পিআইএস-ঘনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি সেনেগাল সফর মাঝপথে বাতিল করে দেশে ফিরে আসেন।
সংকটের পটভূমি: ২০১৫ সালে পিআইএস ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিচারব্যবস্থায় সরকারি প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধের শুরু। পরবর্তী আট বছরে বিচারব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন আনা হয়, যার স্বাধীনতা নিয়ে ২০২১ সালে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইইউর সর্বোচ্চ আদালত প্রশ্ন তোলে।
বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ও জটিলতা: ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় ফিরে ডোনাল্ড টাস্ক বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। চলতি বছর সংসদ আটজন নতুন বিচারপতি নিয়োগ দিলেও প্রেসিডেন্ট নাভরোৎস্কি তাদের পাঁচজনকে শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। ওই পাঁচ বিচারপতি নিজেরা শপথ নিলেও আদালতের প্রেসিডেন্ট তাদের কাজ করতে বাধা দেন।
আগামী ৩ নভেম্বর আদালতের নির্ধারিত বিচারপতিদের বৈঠককে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে দেশটির সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অনলাইন ডেস্ক 



















