
বিদেশের মাটিতে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে থাকা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা বা নির্যাতন দেশের সরকার ও সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই সমর্থন করে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বুধবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’ আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’-এর এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দেশে কিংবা বিদেশে—কোথাও মব কালচার, মব রাজনীতি বা অহেতুক সন্ত্রাস সৃষ্টির কোনো স্থান নেই। নতুন বাংলাদেশে আমাদের অবশ্যই একটি মানবিক, সুস্থ ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
বিগত সরকারের আমলের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা নজিরবিহীন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বহু কর্মী ঘরবাড়ি ছেড়ে গাছে কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন, মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন। আর এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যারা খুন ও গুমের শিকার হয়েছেন, তাঁদের ত্যাগ এবং পরিবারের কষ্টের কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত এসব নেতা-কর্মীদের এখন দেশ গঠন ও উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তাঁদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ণ না করলে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়ী থাকতে হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ স্মরণ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শহীদ জিয়া আমাদের উন্নয়ন, উৎপাদন, জনসেবা এবং সহনশীলতার রাজনীতি শিখিয়েছেন। তাঁর এই শিক্ষা প্রত্যেক কর্মীর অন্তরে ধারণ করতে হবে।” পাশাপাশি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের ওপর চালানো দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। এছাড়া সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 
























