Dhaka ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু ভাঙ্গায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করার আহ্বান দেশে আর কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা দেখতে চায় না সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেমিট্যান্স আহরণ ও সেবা আরও সহজ করতে ওয়ান ব্যাংকের সাথে নগদের কৌশলগত চুক্তি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও থামেনি বিএডিসির বীজ সিন্ডিকেট: বহাল তবিয়তে ‘বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক’ মিরপুরে ডিএনসিসির বড় অভিযান: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই হাজার অবৈধ দোকান বন বিভাগে ‘পে-ফিক্সেশন’ বাণিজ্য: ফাইলপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ, জিম্মি সাধারণ কর্মচারীরা পঞ্চগড় বোদা ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরালের পর ক্ষোভ কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদামে ২ কোটি টাকার চাল ও ধান আত্মসাৎ: দুদকের মামলা চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে মেঘনা নদীতে অভিযান: ১ লাখ মিটার জাল ও ২৫০ কেজি ইলিশসহ আটক ৩

বাজিতপুরে স্কুল ফিডিংয়ের দুধে পোকার অভিযোগ, শিক্ষা অফিসের প্রতিবেদনে নেই উল্লেখ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা UHT দুধের প্যাকেটে পোকা, নষ্ট ও নিম্নমানের দুধ পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে অভিভাবক ও সচেতন মহলে। তবে এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে দুধের প্যাকেটে পোকা পাওয়ার অভিযোগের কোনো উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, গত ১১ জুন থেকে ২২ জুন পর্যন্ত বাজিতপুর উপজেলার ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণ গ্রুপের নরসিংদী ডিপোর মাধ্যমে UHT দুধ সরবরাহ করা হয়। সরবরাহের পর হুমায়ুনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে দুধের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

সোমবার (২৯ জুন) ৪ নম্বর হুমায়ুনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি-সংক্রান্ত কাজে গিয়ে এক অভিভাবক বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত দুধের প্যাকেট দেখতে পান। তার দাবি, কয়েকটি প্যাকেটে ধুলাবালি ও ময়লা জমে ছিল। এছাড়া কিছু প্যাকেটের গায়ে ১০ থেকে ১৫টি পর্যন্ত পোকা চলাফেরা করতে দেখা যায়। পরে তিনি বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানান।

একই ধরনের অভিযোগ উপজেলার মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেও পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে নষ্ট ও নিম্নমানের দুধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ না করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা ছবি, ভিডিও ও নষ্ট দুধ প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করতে বলেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হুমায়ুনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুধের প্যাকেটগুলো বিতরণের জন্য রাখা হয়নি; বরং অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পরে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কয়েকটি বিদ্যালয়ে নতুন দুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

তবে পুরো প্রতিবেদনে কোথাও দুধের প্যাকেটে পোকা পাওয়ার অভিযোগের উল্লেখ নেই। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং কয়েকজন অভিভাবকের বক্তব্যে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, পোকা পাওয়ার অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে তার ফলাফল প্রতিবেদনে কেন প্রতিফলিত হয়নি এবং বিষয়টি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে কি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রশিদ বলেন, “এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।” তবে দুধের প্যাকেটে পোকা পাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা। তাই দুধে পোকা পাওয়ার অভিযোগসহ সব অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

জাপানি ‘ও-সোজি’ মডেলে ঢাকার ২১ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ পাইলট প্রকল্প শুরু