
সৈয়দপুর (নীলফামারী): নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথা মোড় এলাকার অফিসার্স কলোনিতে অবস্থিত রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় এক একর জমি দখলের চেষ্টা পণ্ড করে দিয়েছে রেলওয়ের পূর্তবিভাগ। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সহযোগিতায় কোটি টাকা মূল্যের এ জমিটি উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে একদল শ্রমিক অফিসার্স কলোনি এলাকার ১১০ নম্বর রেলভবনের সামনের ফাঁকা জায়গায় লাল পতাকা পুঁতে চারপাশ টিন ও বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলা শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় জমান এবং দ্রুত খবর পৌঁছায় রেলের পূর্তবিভাগে।
খবর পেয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দখল কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরে বাঁশ, টিনসহ ঘেরা দেওয়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে ট্রাকে করে পূর্তবিভাগের ইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, কাপড় ব্যবসায়ী রানার নির্দেশে তারা এ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছিলেন। শ্রমিকদের দাবি, ব্যবসায়ী রানা রেলওয়ে এস্টেট (ভূসম্পত্তি বিভাগ) থেকে ওই এক একর জমি বন্দোবস্ত (ইজারা) নিয়েছেন।
তবে বন্দোবস্তের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সৈয়দপুর রেলওয়ের পূর্ত পরিদর্শক (আইওডাব্লিউ) শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, “১১০ নম্বর ভবন ও সংলগ্ন জমিটি রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের নামে বরাদ্দ রয়েছে এবং সেখানে মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনা আছে। ফলে কোনো ব্যক্তির কাছে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
ঘটনাটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রেলওয়ের সম্পদ বেআইনিভাবে কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। যারাই এই অপচেষ্টায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও জমিটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে অতিরিক্ত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

























