
পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অপরাধে স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামির গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গোকুন্ডা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে আনুমানিক দুই বছর আগে বিয়ে হয় মোছাঃ মিতু আক্তারের। তাদের পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মিতুর ওপর পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।
এরই জেরে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে আতিকুল কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং পরে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক পেটান। মারাত্মক আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই মারা যান মিতু আক্তার। ঘটনার পর পরই ঘাতক স্বামী পালিয়ে যান।
পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতুর শিশুসন্তান আতিকার কান্নার শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে বিছানায় মিতুর নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় মিতুর বাবা মোঃ ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে আতিকুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালত দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায় সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে বড় বার্তা দেবে।” তিনি জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
আদালতের এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত মিতুর পরিবার ও মামলার বাদীপক্ষ।
অনলাইন ডেস্ক 

























