
নওগাঁর রাণীনগরে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সড়কের দুই পাশে নিম্নমানের ইট, খোয়া ও বালুর মিশ্রণে বালুর পরিমাণ বেশি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি সড়কের নির্ধারিত প্রস্থ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা । তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে মোতাবেক, উপজেলার নলপুকুর থেকে কসবাপাড়া পর্যন্ত ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় ১ হাজার ২১০ মিটার সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে । কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তৃষ্ণা স্টুডিও। গত ১৬ মার্চ শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ আগামী ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদে সড়কের বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি খোয়া ও বালুর মিশ্রণে বালুর পরিমাণ বেশি থাকায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কটি নিম্নমানের হলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে এলাকাবাসীকে আবারও দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে।
ডাকাহার এলাকার বাসিন্দা জমসেদ (পেলু) বলেন, সড়কের দুই পাশে নরম ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ইটের ওপর ভ্যান উঠলেই ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া সড়কের প্রস্থও নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। কাজের মান ঠিক না হলে কিছুদিন পরই ভোগান্তিতে পড়তে হবে।
মোয়াজ্জেম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, বালু ও নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হলে কয়েক মাসের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কাজের মান নিশ্চিত না করে শুধু তাড়াহুড়ো করে নির্মাণকাজ শেষ করা উচিত নয়।
নলপুকুর গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণকাজে খোয়ার তুলনায় বালুর পরিমাণ বেশি দেখা যাচ্ছে। এভাবে কাজ শেষ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর দাবি, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না।
তবে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি গুলজার রহমান বলেন, ইটভাটার মালিকেরা ভালো ইটের সঙ্গে খারাপ ইট মিশিয়ে দেন। এ ছাড়া এখন ভালো ইট পাওয়ার মৌসুম নয়। নিম্নমানের ইট পাওয়া গেলে সেগুলো ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনজনকে বাদও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মারুফ নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছেন না। অভিযোগ সত্য নয় এবং তাঁরা ভালোভাবেই কাজ করছেন।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী শুভাশীষ রায় বলেন, তাঁদের দপ্তর থেকে প্রতিটি উন্নয়নকাজ নিয়মিত তদারকি করা হয়। তবে এ সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকেই প্রথম শুনেছেন। কাজটি এখনো চলমান। তদন্তে কোনো অসংগতি কিংবা গাইডওয়ালের কাজে ত্রুটি পাওয়া গেলে ঠিকাদারকে দিয়ে তা সংশোধন করানো হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্মাণকাজের গুণগত মান, সড়কের নির্ধারিত প্রস্থ ও ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সড়ক নির্মাণ সম্ভব হবে।
মোঃ সোহাগ খন্দকার রাণীনগর(নওগাঁ) প্রতিনিধি 

























