
ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সাম্প্রতিক অশান্তির পেছনে কোনো একটি কথিত ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ ও দেশের ভেতরের গোপন আঁতাত কাজ করছে।
রোববার রাজধানীর মিরপুর ১০ গোলচত্বরে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ মিছিল সফল করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা নিয়ে সরকারের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ
পাহাড়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সমতল ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাহাড় কেন অশান্ত—সরকারকে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেও কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “পাহাড়কে স্থিতিশীল রাখতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। পাহাড়ে কারা অস্ত্র দিচ্ছে, কারা বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে উসকে দিচ্ছে এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে—তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ এর সঙ্গে সরাসরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব জড়িত।”
পথসভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিগত সরকারের বিভিন্ন মেয়াদের কঠোর সমালোচনা করেন এনসিপি নেতারা। নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত তিনটি সংসদ অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও আইনগতভাবে তা পরিষ্কার করা হয়নি।
তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে পুরোনো ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যদি পুরোনো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়, তবে ভবিষ্যতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সময় বা সরকারকেও অবৈধ ঘোষণা করার ঝুঁকি থেকে যাবে। যেমনটি অতীতে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানকে অবৈধ ক্ষমতা দখলদার হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছিল।”
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষারসহ দলটির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।
অনলাইন ডেস্ক 

























