
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছরেরও বেশি সময় পর মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।
বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি-ঢাকা) ও তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সুপারিশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযুক্তরা হলেন সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) এবং সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তারা উভয়েই কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনা ও বর্তমান পরিস্থিতি
-
মরদেহ উদ্ধার: ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসসংলগ্ন এলাকা থেকে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর বাবা ইয়ার আহম্মেদ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
-
বিদেশে অবস্থানের আশঙ্কা: তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযুক্ত দুজন বর্তমানে সৌদি আরবে আত্মগোপনে রয়েছেন। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির বিষয়টি ইতোমধ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
-
ডিএনএ পরীক্ষা: চলতি বছরের এপ্রিলে আদালত তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর (ক্রসম্যাচ) অনুমতি দেন।
-
আইনি পদক্ষেপ: অভিযুক্ত দুজন দেশে না থাকায় এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলায়, গত জুনে কুমিল্লার একটি আদালত ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
তদন্তের ইতিহাস শুরুতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ দিন তনু হত্যার তদন্ত করলেও কোনো সমাধান বের করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের অক্টোবরে পুলিশ সদরের নির্দেশে মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। তদন্তকারীদের মতে, তনুকে ধর্ষণের পরই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
অনলাইন ডেস্ক 





















