
সরকারি সম্পত্তি লুটপাট, গাড়ির টায়ার ও ব্যাটারি গোপনে বিক্রি, ক্যান্টিন ভাড়া আত্মসাৎ এবং কর্মচারী নির্যাতনের মতো একাধিক মারাত্মক অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরে। অভিযোগের তির অধিদপ্তরের গাড়িচালক মো. মোসলেম উদ্দিনের দিকে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এই প্রভাব বিস্তার ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব ও ভূয়া পরিচয়
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজ এলাকায় নিজেকে ‘সহকারী পরিচালক’ হিসেবে পরিচয় দিতেন মোসলেম উদ্দিন। অধিদপ্তরের কর্মচারীদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক নির্যাতন এবং কথায় কথায় বদলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে ২০১৪-২০২২ মেয়াদে রাজনৈতিক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতেন তৎকালীন সমিতি প্রধান মোহাম্মদ আলী হাওলাদার। একই ধারায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অধিদপ্তরে বদলি হয়ে এসেই কোনো নির্বাচন ছাড়াই সরাসরি গাড়িচালক সমিতির সভাপতি পদ দখল করেন মোসলেম উদ্দিন।
গণস্বাক্ষর ও হুমকি-ধমকি
মোসলেম উদ্দিনের অপকর্ম ও প্রশাসনিক দমনের প্রতিবাদে অধিদপ্তরের ৩৯ জন গাড়িচালক একত্র হয়ে তার বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন এবং পদত্যাগ দাবি করে অনাস্থা প্রকাশ করেন। গণস্বাক্ষরের পর অবৈধভাবে গঠিত তার কমিটি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেও, স্বাক্ষরকারী ড্রাইভারদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি, বদলি ও প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
আর্থিক দুর্নীতি ও সম্পদ লুটপাট
অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি গাড়ির নতুন টায়ার ও ব্যাটারি গোপনে বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অধিদপ্তরের গাড়িচালকদের ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে আদায় করা প্রায় ৫ হাজার টাকা ভাড়ার কোনো স্বচ্ছ হিসাব সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। আর্থিক অনিয়ম বা ভাড়ার রসিদ দেখতে চাইলেই কর্মচারীদের ওপর নেমে আসে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
তদন্ত ও প্রমাণের দাবি
সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরোক্ষ মদদ ছাড়া একজন সাধারণ গাড়িচালকের পক্ষে একা এত দুর্নীতি করা অসম্ভব। পরিস্থিতি উত্তরণে ক্যান্টিন ভাড়ার রেজিস্টার, টায়ার-ব্যাটারি ক্রয়-বিক্রয়ের নথি, গাড়ির লগবুক, মেরামত বিল, বদলি ফাইল এবং টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার জোর দাবি উঠেছেন কর্মচারীরা।
অভিযোগ অস্বীকার
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোসলেম উদ্দিন। তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একটি কুচক্রী মহল আমাকে এবং আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এসব রটাচ্ছে।”
অনলাইন ডেস্ক 





















