
ঢাকার সাভারে কিশোর রিপন ঋষিকে অপহরণ করে নির্যাতন এবং শামীম রেজার গ্যারেজ থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মালামাল লুটের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই আলোচিত মামলার অন্যতম আসামি মানিক ওরফে পিস্তল মানিক ওরফে কিলার মানিক (৩৫)কে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
রোববার (২৮ জুন) বিকেলে সাভার পৌরসভার রাজাশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল ওয়াহাব।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া মানিক কিশোর রিপন ঋষিকে অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলায় তার বিরুদ্ধে অপহরণ, গুরুতর জখম এবং হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও চলতি দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, “গ্রেপ্তার আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে অটোরিকশা ও ব্যাটারি লুটের মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া মানিকের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সাভারে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। এর আগে একটি হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
এর আগে সাভারে চাঁদাবাজি, অটোরিকশা লুট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা এবং কিশোর অপহরণ ও নির্যাতনের পৃথক দুই মামলায় বহিষ্কৃত সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামিরসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়। আলোচিত এসব ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে দুটি মামলাই সাভার মডেল থানায় রেকর্ড হয়।
এদিকে, আলোচিত দুই মামলার প্রধান আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি মাহাবুব হোসেন সামিরসহ পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























