
পাইকগাছা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিববাটি এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সিসি সড়ক ও ড্রেনের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে এবং নির্মাণে নির্ধারিত সিডিউল অনুসরণ করা হয়নি। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে পুনরায় সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, টোল আনারের বাড়ি থেকে পৌরসভার কার্যসহকারী বিদ্যুৎ কুমার রায়ের বাড়ি পর্যন্ত সিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় আখি এন্টারপ্রাইজ। পরে ঠিকাদার ইউসুফ আলী সরদার কাজটি সম্পন্ন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
রোববার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যেখানে সড়কের ঢালাই ৪ ইঞ্চি হওয়ার কথা, সেখানে অনেক স্থানে মাত্র ২ থেকে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ড্রেনের স্ল্যাবে প্রয়োজনীয় রড ব্যবহার না করেই ঢালাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এ ধরনের নিম্নমানের নির্মাণকাজ সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সিডিউল অনুযায়ী পুনরায় কাজ সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ আত্মসাত বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহাম্মদ বলেন, “আমি সাতক্ষীরা পৌরসভায় কর্মরত। পাইকগাছা পৌরসভায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারী বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
উপসহকারী প্রকৌশলী লিংকন বলেন, “যদি সিডিউল অনুযায়ী কাজ না হয়ে থাকে, তাহলে প্রয়োজন হলে ত্রুটিপূর্ণ অংশ ভেঙে পুনরায় সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণ করা হবে।”
কার্যসহকারী বিদ্যুৎ কুমার রায় বলেন, “ঠিকাদার আমার নির্দেশনা না মেনে জোর করে কাজ করেছেন।”
অন্যদিকে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার বলেন, “সিডিউল অনুযায়ী কাজ না হলে সংবাদ প্রকাশ করুন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল শাখার দায়িত্ব।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতেও পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাই এবারের ঘটনাটিরও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে বিদ্যুৎ কুমার রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। তাই এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রাও।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















