Dhaka ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল সুনামগঞ্জে ধোপাজান চলতি নদীতে অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারা চালুর দাবিতে মানববন্ধন চাঁদপুরে ভোক্তার অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুজবে কান নয়, তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন: আইসিটি মন্ত্রী রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু সাবেক তাঁতীলীগ নেতা এখন সাংবাদিক, ঘিরে উঠছে একের পর এক অভিযোগ টেকনাফে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক জামালকে হাসপাতালে দেখতে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জে ট্রাক ও নসিমনের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, আহত-২ উত্তরা ১৪ নাম্বর সেক্টরে রাস্তার ওপর অবৈধ স্থাপনার অভিযোগ, দ্রুত উচ্ছেদের দাবিতে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ নবনিযুক্ত ইউএনও লিখন বণিককে নাগরপুর জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার অভিনন্দন

কাঁঠালিয়া বছরের পর বছর সংস্কারহীন গুরুত্বপূর্ণ সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট ব্রিজ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার পরিবারের বসবাস এই ইউনিয়নে। জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ঢালাই ভেঙে মাটি বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতা। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এ সড়কে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন সড়কের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ গাজী বলেন, “সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আইডি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত,নিজস্ব কারখানা অচল

কাঁঠালিয়া বছরের পর বছর সংস্কারহীন গুরুত্বপূর্ণ সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কের বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচল

আপডেট টাইম : ০১:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ১নং চেঁচরীরামপুর ইউনিয়নের সিকদারহাট ব্রিজ থেকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সীমানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪ থেকে ৬ হাজার পরিবারের বসবাস এই ইউনিয়নে। জনসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ঢালাই ভেঙে মাটি বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতা। এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এ সড়কে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে এই ভাঙাচোরা সড়ক ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে দিন দিন সড়কের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক মাহফুজ গাজী বলেন, “সিকদারহাট-ভাণ্ডারিয়া সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, আইডি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমস্যা সমাধান হলেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, হাজারো মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।