
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ
কুমিল্লা প্রতিনিধি।
কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভা সদরে অবস্থিত আধুনিক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ও চরম অবহেলায় খাদিজা আক্তার নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।গত ২ দিন আগে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ভুল চিকিৎসার কারনে গৃহবধুর অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের আই সি ইউ তে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেল হসপিটাল থেকে মুন হসপিটাল এ আনার পরে গতকাল রাত ২ ঘঠিকায় খাদিজা আক্তারের মৃত্যু হয়। মৃত গৃহবধূ খাদিজা আক্তার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বড়দোশিয়া গ্রামের মোঃ শরিফুল ইসলাম এর স্ত্রী।
অভিযোগ রয়েছে, আধুনিক মেডিকেল হসপিটালের প্রায়ই ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়। এই হাসপাতালের মালিক ডা.সানজিদা ও ডা. জাবেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়।গত কয়েকদিন আগে এক নবজাতকের মৃত্যু হওয়ায় ৩ লাখ টাকায় সেটি ধামাচাপা দেওয়া হয়।এর আগে এক রোগীর পেটে সিজারিয়ান কেঁচি রেখে সেলাই করা হয়। প্রায়ই এই হসপিটালে রোগীর মৃত্যু নিয়ে রয়েছে বিস্তার অভিযোগ।কথিত রয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সাব্বির আহমেদ এবং তার ভাই ডা. জাবেদ এই হসপিটালের পরিচালক। তারা তাদের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই হসপিটালে ব্যবসা পরিচলনা করে আসছে।বারবার ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলেও তাদের স্বজনরা তাদের ভয়ে কোন ধরনের প্রতিকার পান না।চিকিৎসকের এমন অমানবিক আচরণে ক্ষুব্ধ রোগীর পরিবার।
লিলু ম্যনশন বাড়ির মালিক তানিম জানান তারা এই হাসপাতাল ডা. সানজিদা ও ডা. জাবেদের নিকট ভাড়া দিয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালনায় রয়েছেন সমন্বয়ক সাব্বির আহমেদ। তবে প্রায়ই এই হসপিটালে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগে এক রোগী মারা যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দফারফা করেন। কোন অঘটন ঘটলেই মিডিয়া এবং রোগীর আত্মীয়-স্বজন প্রায় তাদের দোষারোপ করেন। তিনি জানান আমরা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে স্ট্যাম্প করে ভাড়া দিয়েছে। এই হাসপাতালের সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।
আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসকের চরম গাফিলতি ও অপচিকিৎসার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনেরা। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ভুক্তভোগী গৃহবধূর শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যাওয়ায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার।
হাসপাতালটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল, তারা ট্রেনিংরত ডাক্তার (কম বেতনে) ও নার্স, ডিপ্লোমা করা চিকিৎসক দিয়ে সিজার করায়। হাসপাতালটির আয়তন ছোট এবং পরিবেশ সুবিধার নয়। তবে রোগী যাওয়ার অন্যতম কারণ হল- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দালাল চক্র এবং হাসপাতালের কমিশন বাণিজ্য।
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ কুমিল্লা প্রতিনিধি। 






















