
তৃণমূলে কোন্দলের শঙ্কায় বিএনপি।
*বড় চ্যালেঞ্জ হবে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা।
*তিন মানদণ্ডে হবে বাছাই।
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ
কুমিল্লা প্রতিনিধি।
কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভা।বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী একজন নন, দুজনও নন— অন্তত পাঁচজন। সবাই দীর্ঘদিনের নেতা। কারও রয়েছে আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস, কারও রয়েছে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি, আবার কেউ এলাকায় জনপ্রিয় মুখ। সবাই এখন নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে মাঠে। চলছে গণসংযোগ। বাড়ছে কর্মিসভা। দলীয় সমর্থন পাওয়ার আশায় বাড়ছে তৎপরতাও।তবে একই সঙ্গে বাড়ছে নীরব প্রতিযোগিতা। স্থানীয় নেতাদের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত একজনকে সমর্থন দিলে অন্যদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে তৃণমূল সংগঠনেও।শুধু বুড়িচং পৌরসভা নয়, এমন চিত্র এখন দেশের অনেক উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনে। কোথাও চারজন, কোথাও পাঁচজন, আবার কোথাও তারও বেশি বিএনপি নেতা একই পদে দলীয় সমর্থনের প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যক্তিনির্ভর হওয়ায় একই এলাকায় একাধিক যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতা থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তই সবচেয়ে কঠিন।তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় দলটি। উপজেলা ও পৌর ইউনিটের মতামত, জেলা নেতাদের পরামর্শ এবং নিজস্ব খোঁজ-খবরের ভিত্তিতে সাংগঠনিক সম্পাদকরা এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন। পরে সেই তালিকা দলের হাইকমান্ডের কাছে জমা দেওয়া হবে। এলাকায় জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা—এই তিনটি মানদণ্ডের ভিত্তি তেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে।যারা এই তিন মানদণ্ড পূরণ করছেন, তাদের অনেককে এরই মধ্যে এলাকায় কাজ করার প্রাথমিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বুড়িচং উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং পৌর মেয়র পদে স্থানীয় ভাবে বিএনপির একাধিক শক্তিশালী নেতা রয়েছেন।কাউন্সিলর পদে ও আগ্রহ রয়েছে একাধিক প্রার্থীর। বিশেষ করে পৌরসভার কাউন্সিলর প্রার্থী হতে ইচ্ছুক বিএনপির স্থানীয় নেতারা গ্রাম গঞ্জে, পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে বেশি সরব রয়েছেন। ফলে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের মধ্যে সমন্বয়কেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিএনপি।
বুড়িচং পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপি থেকে অন্তত পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহী। তারা হলেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হাজী কবির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো কামাল হোসেন, সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, বুড়িচং উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জাবেদ কাউসার সবুজ চেয়ারম্যান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান কবির হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য আরিফুর রহমান সুমন। তবে বুড়িচং পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪নং ওয়ার্ডে গনসংযোগ করছেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো এনামুল হক, ৫ নং ওয়ার্ডে বুড়িচং সদর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিনুল হক খান, ২নং ওয়ার্ডে বুড়িচং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো মনির হোসেন ভুইঁয়া, ৮নং ওয়ার্ডে বুড়িচং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন ভুইঁয়া। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডে বিএনপির সমর্থনে অন্তত তিনচার জন কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় প্রায় একশ নেতাকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। তাদের সমর্থন করায় তৃণমূলের আরও প্রায় পাঁচশ নেতাকর্মী কেও তখন বহিষ্কার করা হয়। এসব বহিষ্কারাদেশ এখনো প্রত্যাহার হয়নি। ফলে অনেক জায়গায় তৃণমূল কার্যত বিভক্ত। ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন এলাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলও দৃশ্যমান হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিটি জায়গায় গড়ে তিন থেকে চারজন করে নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।তবে প্রতিটি জায়গায় দলের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলে ও একক প্রার্থী নির্ধারণ কে বড় সংকট হিসেবে দেখছেন না বিএনপির নীতি নির্ধারকেরা।তারা বললেন, নির্দলীয় নির্বাচনে অনেকের আগ্রহ থাকাটা স্বাভাবিক। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই অনেকে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে সরে দাঁড়াবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী নির্ধারণে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।
গাজী কুদ্দুছুর রহমান সোহাগ কুমিল্লা প্রতিনিধি। 





















