
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরুড়া:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার খোশবাস উত্তর ইউনিয়নের রহিমপুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টার ঘটনায় উত্তর খোশবাস ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতিসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বরুড়া জোনাল অফিসের প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে বরুড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি থানার মামলা নং-১৫ হিসেবে রুজু হয়েছে। মামলায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৯ (চুরি) ও ৪১১ (চোরাই মাল গ্রহণ বা হেফাজতে রাখা) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই রাতে উপজেলার রহিমপুর এলাকায় একটি পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করা হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে বরুড়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করে আরও কয়েকজনকে মামলার আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন— ১. সায়মন (২১), পিতা: মোতালেব, গ্রাম: রহিমপুর। ২. রোমান হোসেন (২৮), পিতা: তাজুল ইসলাম, গ্রাম: ইলাশপুর। তিনি উত্তর খোশবাস ইউনিয়ন ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি। ৩. রাতুল (২০), পিতা: কামাল, গ্রাম: রহিমপুর। ৪. রাব্বি (২৫), পিতা: ওসমান গনি, গ্রাম: খোশবাস। ৫. মাসুদ (২১), পিতা: বাবুল, গ্রাম: খোশবাস। ৬. রাকিব (২৩), পিতা: জামাল, গ্রাম: ইলাশপুর।
এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরুড়া থানার পুলিশ জানায়, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক হওয়া একজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং ওয়ারেন্টভুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর রুমন হোসেনের এর নেতৃত্বে এলাকার চুরি ডাকাতি সহ চাঁদাবাজির পরিমাণ বেড়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অতীতেও এলাকায় চুরি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় প্রচলিত অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত রায় হয়নি।
স্থানীয়রা এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরুড়া: 
























