
ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধোকেরকুল গ্রাম থেকে লিমা আক্তার (১৭) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত লিমা আক্তার উপজেলার ধোকেরকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর মেয়ে। তিনি ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
পরিবারের অভিযোগ, ধনবাড়ী পৌর এলাকার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সঙ্গে লিমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের দাবি, গত ১১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে শান্ত মোবাইল ফোনে লিমাকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর সারাদিন তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাতের দিকে ছেলেপক্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীকে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করে। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে লিমাকে তার বড় বোনের জামাই কাবেলের বাড়ির সামনের সড়কে জোরপূর্বক সেখানে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরদিন রোববার বেলা ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় লিমাকে ঝুলতে দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের মা মোছা. শাহিদা বেগম বলেন, “১১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মারুফ হোসেন শান্ত আমার মেয়েকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আমার মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে দুবাইপ্রবাসী মঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর পরিবারের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের বাড়ীতে পাওয়া যায়নি।
ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ধনবাড়ী টাঙ্গাইল প্রতিনিধি। 























