Dhaka ১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
তাহিরপুরে জমি বিরোধে মামলা করায় নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম সৌদি আরবে নিহত দুই ভাইয়ের দাফন সম্পন্ন বরগুনা জেলার পাথরঘাটায় হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক অভিযুক্ত আল আমিন’কে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প কর্তৃক গ্রেফতার। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ গ্রাম হেরোইন ও ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে মোটরসাইকেলসহ দুই জন আটক ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎঃ তাহিরপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন, প্রেমিক পলাতক,বিয়ে না করলে আত্মহত্যা হুমকি ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন,এমপিকে কুমিল্লার বরুড়ায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা: ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা নাগরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ধনবাড়ীতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

মো: পলাশ ইসলাম
ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

চারপাশজুড়ে সবুজ গাছপালা আর মনোরম পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে দোতলা ভবন। এটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আধুনিক ভবন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বিদ্যালয়টিতে পৌঁছানোর কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা নেই। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। রাস্তার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে, কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ অবস্থায় দ্রুত একটি স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন চারজন শিক্ষক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো সরকারি রাস্তা না থাকায় বছরের অধিকাংশ সময়ই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। শুষ্ক মৌসুমে ক্ষেতের আইল কিংবা অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হয়। আর বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে গেলে শিক্ষার্থীদের পানির মধ্য দিয়েই বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে অনেক সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন বলেন, “বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচল করতে গেলে নানা কথা শুনতে হয়। তাই অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পানির মধ্য দিয়েই যেতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের মাত্র ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে একটি রাস্তা থাকলেও বিদ্যালয়ের সঙ্গে সেটির কোনো সংযোগ নেই। সামান্য একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল হক বলেন, “যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে দ্রুত একটি স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী বলেন, “শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও বর্ষাকালে উপস্থিতির হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে আসে। শুধু যাতায়াত সমস্যার কারণেই অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।”

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুনা বলে, “রাস্তা না থাকায় স্কুলে আসতে খুব কষ্ট হয়। অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে আসতে হয়। আমরা চাই উপজেলা প্রশাসন দ্রুত আমাদের স্কুলে যাওয়ার একটি ভালো রাস্তা করে দিক।”

এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

তাহিরপুরে জমি বিরোধে মামলা করায় নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম

ধনবাড়ীতে বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা

আপডেট টাইম : ০১:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

মো: পলাশ ইসলাম
ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

চারপাশজুড়ে সবুজ গাছপালা আর মনোরম পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে দোতলা ভবন। এটি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আধুনিক ভবন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকলেও বিদ্যালয়টিতে পৌঁছানোর কোনো নির্দিষ্ট রাস্তা নেই। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। রাস্তার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে, কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ অবস্থায় দ্রুত একটি স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন চারজন শিক্ষক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো সরকারি রাস্তা না থাকায় বছরের অধিকাংশ সময়ই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। শুষ্ক মৌসুমে ক্ষেতের আইল কিংবা অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হয়। আর বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে গেলে শিক্ষার্থীদের পানির মধ্য দিয়েই বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে অনেক সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন বলেন, “বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচল করতে গেলে নানা কথা শুনতে হয়। তাই অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পানির মধ্য দিয়েই যেতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের মাত্র ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে একটি রাস্তা থাকলেও বিদ্যালয়ের সঙ্গে সেটির কোনো সংযোগ নেই। সামান্য একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল হক বলেন, “যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে দ্রুত একটি স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী বলেন, “শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও বর্ষাকালে উপস্থিতির হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে আসে। শুধু যাতায়াত সমস্যার কারণেই অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।”

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুনা বলে, “রাস্তা না থাকায় স্কুলে আসতে খুব কষ্ট হয়। অন্যের বাড়ির ভেতর দিয়ে আসতে হয়। আমরা চাই উপজেলা প্রশাসন দ্রুত আমাদের স্কুলে যাওয়ার একটি ভালো রাস্তা করে দিক।”

এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিদ্যালয়ের জন্য একটি স্থায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।