
দীর্ঘ ছয় মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন টেকনাফের সংবাদকর্মী আরাফাত সানী। কারামুক্ত হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নিজের গ্রেপ্তার, মামলা ও কারাভোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা ও পরিকল্পিত বলে দাবি করেন।
আরাফাত সানীর ভাষ্য, তিনি কোনো মাদক বা অস্ত্র-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর দাবি, প্রশাসনের কিছু সদস্য তাঁকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি বানোয়াট মামলা দায়ের করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একজন সংবাদকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন অনিয়ম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরার কারণেই তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন।
কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আরাফাত সানী বলেন, ছয় মাস কারাগারে থাকার কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মুক্তির পর তিনি আরও বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে কারাগারে থাকা প্রায় তিন হাজার বন্দির মধ্যে অন্তত এক হাজার ব্যক্তি নিরপরাধ এবং মিথ্যা মামলার শিকার। তিনি নিজেও এমন একটি মামলার ভুক্তভোগী বলে দাবি করেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, আরাফাত সানীর জামিনে মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, আরাফাত সানীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তাঁর নিজস্ব বক্তব্য। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























