
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৫৪.৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বন্ধ থাকা এই টেক্সটাইল মিলের জায়গায় এবার গড়ে তোলা হচ্ছে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ কারখানা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় ফৌজদারহাটে মিল চত্বরে জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম এমপি, সচিব শরাফ উদ্দিন আহমেদ এবং সেনাপ্রধানসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিরক্ষা খাতে মাইলফলক দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতা আনা এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এই জমিতে উচ্চপ্রযুক্তির সমরাস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরির জন্য বিশেষায়িত প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এছাড়া সামরিক লজিস্টিক সরবরাহ ও সংবেদনশীল সরঞ্জাম নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের জুনে সাবেক সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দল কারখানাটি পরিদর্শন করার পর থেকে এর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রতিরক্ষা খাতকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতীকী মূল্যে জমিটি বিওএফ-এর কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন প্রদান করে।
বকেয়া আদায়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ হস্তান্তর অনুষ্ঠান চলাকালেই কারখানার বাইরে বকেয়া পাওনার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাবেক শ্রমিক ও কর্মচারীরা। ২০০৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই মিলটির ১,০৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী গত ২২ বছর ধরে তাদের বকেয়া বেতনের অপেক্ষায় আছেন। সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা জানান, অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ শ্রমিকদের বকেয়ার পরিমাণ ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। পাওনা না মিটিয়ে হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইতিহাস ও জাতীয় অর্জন পাকিস্তান আমলে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত জলিল টেক্সটাইল মিলটি ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা হয়। উন্নতমানের কাপড় ও সুতা তৈরির জন্য এই মিলটি অতীতে তিনবার ‘জাতীয় স্বর্ণপদক’ অর্জন করেছিল। তবে ব্যবস্থাপনা সংকট ও ধারাবাহিক লোকসানের মুখে ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার মিলটি পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে।
অনলাইন ডেস্ক 

























