
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগামী রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। এই আন্দোলনকে স্রেফ কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই বলে অভিহিত করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
এক ভিডিওবার্তায় রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক মতাদর্শের বিভেদ ভুলে দেশের সব ছাত্র সংগঠনকে এই আন্দোলনে দলমতনির্বেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশের বাধা বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে রাজপথে নামার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার এমন দমনপীড়ন চালানোর সাহস পাবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট সব নাগরিককে সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলা এই আন্দোলন দমনে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির। যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আটক হন চার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, মানিক সরকার এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
শুরুতে এই বিক্ষোভে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হলেও, পরবর্তীতে বিরোধী নেতাদের গ্রেফতারে সরব হন রাহুল গান্ধী। যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর মতো বিষয়েও আটকদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সরকারের দমনপীড়নের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
আন্দোলনের কৌশল নিয়ে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের নতুন ইঙ্গিত মিলছে। রোববারের এই মহাসমাবেশে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তৎপরতা চলছে। এখন সবার নজর আগামী রোববারের রামলীলা ময়দানের দিকে—এই সমাবেশে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলগুলো এবং ছাত্রসমাজ কতটা শক্তি প্রদর্শন করতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
অনলাইন ডেস্ক 

























