
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতা নুর ইসলাম মারা গেছেন। আদালত থেকে জামিন পাওয়ার দুই দিন পরও কারামুক্ত হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নুর ইসলাম (৫৪) মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং স্থানীয় ‘মাতৃকা’ নামক একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিপণন বিভাগে চাকরি করতেন। তিনি দুই ছেলে ও এক সন্তানের জনক।
ঘটনার বিবরণ ও আইনজীবী’র অভিযোগ
নুর ইসলামের আইনজীবী শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও তাকে অন্যায্য ও বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছিল।
-
৩১ আগস্ট: আদালত নুর ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন এবং সেদিন বিকেলেই জামিনের লিখিত আদেশ কারাগারে পৌঁছায়।
-
২ সেপ্টেম্বর: জামিন আদেশ কার্যকরের পরিবর্তে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
আইনজীবীর মতে, জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর তার মুক্তিতে কোনো আইনি বাধা থাকার কথা ছিল না। কিন্তু মিরসরাই থানা পুলিশ তাকে অন্য একটি মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানোর’ (শো-অ্যারেস্ট) আবেদন করায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। ওই আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৬ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল। ২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুর আগপর্যন্ত তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো কার্যকর আটকাদেশ বা পরোয়ানা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
-
কারা কর্তৃপক্ষ: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, এক বন্দি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জামিনের পরও আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা আইনি আদেশ ছাড়া কাউকে আটকে রাখা সম্ভব নয় এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।
-
পুলিশ প্রশাসন: মিরসরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আওলাদ হোসেন জানান, নুর ইসলামকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়েছিল, তবে আদালত এ বিষয়ে কী আদেশ দিয়েছেন তা তার জানা নেই।
মাসখানেক আগে মিরসরাই থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা তার মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করতে হয়।
অনলাইন ডেস্ক 

























