
পুলিশের চাকরিতে কর্মরত থেকেও আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ বহাল রাখার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।
সমিতির নথি অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে তিনি এই সমিতির সদস্য। তবে ওসির দাবি, তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগেই ২০০৫ সালের ৬ মে বার কাউন্সিলে আবেদন করে নিজের সদস্যপদ স্থগিত করেছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন গণমাধ্যমকে জানান, অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত থেকে আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ সক্রিয় রাখা সমিতির বিধিবিধানের পরিপন্থী। এই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণেই তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইন পেশায় নিয়মিত না থেকেও সদস্যপদ ধরে রেখেছেন এমন অন্যান্য ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এ ধরনের অনিয়ম রোধ করতে গত ২৫ জুন একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসী প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত সদস্যদের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় সদস্যপদ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই ওসি মনজুর কাদেরকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শোকজের জবাবে ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, তিনি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই সদস্যপদ স্থগিতের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাই তার সদস্যপদ বাতিলের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি বিশ্বাস করেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ভবিষ্যতে পুনরায় আইন পেশায় ফেরার ইচ্ছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। সমিতির পাঠানো নোটিশের লিখিত জবাবের পাশাপাশি এসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও জমা দেবেন বলে উল্লেখ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির একটি বাগ্বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা চলাকালীন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না দেওয়া এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ওই দিন রাতে থানায় যান রুমিন ফারহানা। সেখানে তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও ওসি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনা হয়েছে। তর্কের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।” জবাবে ওসি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “আপনি তো আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন।”
বর্তমানে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা এই পেশাগত অসঙ্গতির বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
অনলাইন ডেস্ক 






















