
পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাব, উচ্চ ব্যাংক সুদ এবং বিশ্ববাজারের মন্দায় সংকটের মুখে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত।
জ্বালানি সংকটে সিংহভাগ কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় রপ্তানি আদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জ্বালানি ও ব্যাংক ঋণের সুবিধা বৃদ্ধি সহ ৬ দফা সুপারিশ নিয়ে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম রোজালিন।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ পোশাক খাতের অগ্রগতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সংকটের চিত্র ও বিজিএমইএ’র উদ্বেগ
বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল বৈঠকে পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জানায়:
-
উৎপাদন ও বিনিয়োগ মন্দা: গত তিন বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে ইতোমধ্যেই প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
-
রপ্তানি হ্রাস: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১.৬৪% এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১.৯২% কমেছে।
-
উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস: গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে অধিকাংশ কারখানা ৫০% এর কম সক্ষমতায় চালাতে বাধ্য হচ্ছে।
বিজিএমইএ প্রস্তাবিত ৬টি মূল সুপারিশ
পোশাক খাতের টেকসই সুরক্ষা ও গতি ফেরাতে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির কাছে ৬টি নীতিগত সুপারিশ পেশ করে:
-
জ্বালানি নিরাপত্তা ও সংযোগ: দ্রুততম সময়ে নতুন দুটি এফএসআরইউ (FSRU) স্থাপন করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখা, আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া।
-
অবকাঠামো ও লজিস্টিকস: ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো শেড সম্প্রসারণ, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করা এবং বেনাপোল দিয়ে সুতা আমদানি প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা।
-
আর্থিক সহায়তা ও ঋণ: ব্যাংক ঋণের সুদের হার হ্রাস করা, ‘পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম’ প্রণয়ন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া এবং জিটিএফ ও টিডিএফ তহবিলে বরাদ্দ বৃদ্ধি।
-
ব্যবসা সহজীকরণ: কাস্টমস বন্ড অডিট প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক ও জটিলতামুক্ত করা।
-
বাণিজ্য কূটনৈতিক উদ্যোগ: এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে দ্রুত এফটিএ (FTA), পিটিএ (PTA) ও ইপিএ (EPA) চুক্তি সম্পাদন।
-
শ্রমিক কল্যাণ ও নীতি: গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের জমি বরাদ্দ এবং ঝুট ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন।
রাষ্ট্রপতির আশ্বাস
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৈরি পোশাক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে এবং এই সাময়িক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।
অনলাইন ডেস্ক 
























