
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রমে লাল বলের ক্রিকেটে মহাকাব্যিক এক ইতিহাস লিখলেন তাওহীদ হৃদয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে অপরাজিত ৩৫০ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস উপহার দিয়েছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির বা চার দিনের ম্যাচে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সাড়ে তিনশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানো প্রথম বাংলাদেশিও তিনি।
২০২০ সালে যে পচেফস্ট্রমে ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ, ঠিক সেই চেনা প্রাঙ্গণেই ৪৮১ বলে ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো এই রেকর্ড গড়েন তরুণ এই ব্যাটার।
পচেফস্ট্রমে যেমন ছিল হৃদয়ের ব্যাটিং তাণ্ডব
-
চতুর্থ দিনের সূচনা: আগের দিন ২০৪ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় বুধবার সকালে আবার ব্যাটিংয়ে নামেন।
-
সঙ্গীদের বিদায় ও বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ: নাঈম হাসান (১৬) ও হাসান মাহমুদ (১১) দ্রুত বিদায় নিলে ৫১৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে নবম উইকেটে রেজাউর রহমান রাজাকে সঙ্গে নিয়ে একাই তাণ্ডব চালান হৃদয়।
-
৩৫০ রানের মাইলফলক: মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ২৭৪ রান করা হৃদয় বিরতির পর সাবলীল ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ট্রিপল সেঞ্চুরি এবং শেষ পর্যন্ত ৩৫০ রানে অপরাজিত থাকেন।
-
দলীয় সংগ্রহ: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে।
-
অন্যান্য অবদান: হৃদয়ের রেকর্ডের ম্যাচে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলী।
টেস্টের ঘাটতি পুষিয়ে ‘এ’ দলে রাজত্ব চলতি বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে মাত্র ১২ রানে আউট হয়ে বাদ পড়েছিলেন দল থেকে। অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে সুযোগ না পাওয়ায় লাল বলের খেলায় নিজেকে ঝালিয়ে নিতে স্বেচ্ছায় ‘এ’ দলে খেলার আগ্রহ জানান তিনি। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার তাঁর সেই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন, আর সুযোগ পেয়েই নিজের সক্ষমতার সেরাটা প্রমাণ করলেন এই ব্যাটার।
রেকর্ড বইয়ে হৃদয়ের নাম
-
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩য় ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান: রকিবুল হাসান (২০০৭ সালে ৩১৩) এবং তামিম ইকবালের (২০২০ সালে ৩৩৪) পর দেশের ৩য় ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়।
-
বিদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ রান: ২০০৩ সালে করাচিতে শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের করা ২১৮ রানের রেকর্ড ভেঙে বিদেশের মাটিতে আন-অফিসিয়াল টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন তাওহীদ হৃদয়।
হৃদয়ের এই অনন্য অর্জনে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
নিজের এই বিশ্বমানের ইনিংস নিয়ে হৃদয় বলেন, “ম্যাচ চলাকালীন অফিশিয়ালরা আমাকে ইউটিউবে দর্শকদের সংখ্যা নিয়ে বলছিলেন। আমি তাদের বলেছি, বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটকে পাগলের মতো ভালোবাসে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে যেমন পুরো স্টেডিয়াম আমাদের সমর্থকে ভরা ছিল, তেমনি আমরা যেখানেই খেলি না কেন, দর্শকরা সবসময় আমাদের পাশেই থাকে।”
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান করেছিল। বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৬৭৬ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়ারা ৩৫.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৭০ রান তুললে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে অঘোষিত হয়।
অনলাইন ডেস্ক 
























