
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজটিতে থাকা ফিলিপাইনের দুই নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। সৌদি আরব (রিয়াদ) এই আক্রমণের জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করলেও তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি সৌদি জাতীয় জাহাজ চলাচলকারী সংস্থা ‘বাহরি’র তথ্যমতে, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তাদের ‘সিদর’ (Seador) নামের সুপারট্যাংকারটি ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের উত্তরাংশের হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় আক্রান্ত হয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অজ্ঞাত কিছু প্রজেক্টাইল বা বস্তুর আঘাতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, হামলায় নিহত দুই ফিলিপিনো নাবিকের পরিবারের প্রতি তারা গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছে। জানা গেছে, ঘটনার সময় জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল সৌদি অপরিশোধিত তেল ছিল। প্রায় একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকারও হামলার শিকার হয় বলে সামুদ্রিক ঝুঁকি ও গোয়েন্দা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মারিস্কস (Marisks) ও কেপলার (Kpler) জানিয়েছে।
সৌদি সরকারের প্রতিক্রিয়া সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক এই নৌপথে নিজেদের তেলবাহী জাহাজে হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে। সেই সঙ্গে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইরানি হামলা ও উত্তেজনার সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখার জোর তাগিদ দিয়েছে। রিয়াদ স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া অত্যন্ত আবশ্যক।
ইরানের অবস্থান ইরান এখন পর্যন্ত রিয়াদের তোলার সরাসরি অভিযোগের জবাব না দিলেও ইতিপূর্বে তারা দাবি করেছিল—অনুমোদনহীন পথ ব্যবহার করে প্রণালি অতিক্রম করার সময় দুটি ট্যাংকার মাইনের ধাক্কায় অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 
























